


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের ২১টি গঙ্গার ঘাট এবং ১০১টি পুকুর, ঝিল, জলাশয়ে নির্বিঘ্নেই মিটল প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব। বুধবারই বিভিন্ন বাড়ির পুজো থেকে শুরু করে কয়েকটি বড়ো পুজো কমিটি প্রতিমা বিসর্জন সেরে ফেলে। বৃহস্পতিবার-শুক্রবারও দিনভর চলে বিসর্জন। যদিও বৃহস্পতিবার একাদশীতে বিসর্জন অনেকটাই কম ছিল বলে জানা গিয়েছে। মূলত দশমী ও দ্বাদশীতেই সর্বাধিক প্রতিমার নিরঞ্জন হয়েছে শহরে।
কলকাতা পুরসভার হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত ৩২৫৮ প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে কলকাতার বিভিন্ন ঘাটে। ঘাটগুলিতে যাবতীয় দায়িত্ব সামলাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুলিশও। বিশেষ আকর্ষণ ছিল গোয়ালিয়র ঘাট বা জাজেস ঘাটের র্যাম্প। সেখানে এবার এই র্যাম্পের কারণে বাড়তি প্রতিমা নিরঞ্জন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, এবার দশমীতেই শহরের প্রায় ১৯০০ প্রতিমা বিসর্জন হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন ঘাটে পুরসভার একাধিক অফিসার দায়িত্বে ছিলেন। বিসর্জনের কারণে যাতে গঙ্গা দূষণ না হয়, তাই আগে থেকেই পুজোর ফুল, বেলপাতা ইত্যাদি আলাদা করা হচ্ছে। প্রতিমা জলে পড়া মাত্র ক্রেন দিয়ে কাঠামো তুলে ঘাটে জমা করা হয়েছে। তারপর নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্যত্র। যদিও এবার প্রতিমা নিরঞ্জনের পরেও গঙ্গায় ফুল, পুজোর নানা উপাচার ভাসতে দেখা গিয়েছে। বাজেকদমতলা ঘাট, নিমতলা ঘাট থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে একই চিত্র। জলে দীর্ঘক্ষণ ভাসতে দেখা গিয়েছে প্রতিমার কাঠামো, গয়না থেকে শুরু করে প্রতিমার অংশবিশেষ। অনেকক্ষণ পর সেসব তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুরসভা সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লরি এবং ডাম্পার মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার টন কাঠামো ও পুজোকেন্দ্রিক বর্জ্য গঙ্গা থেকে তোলা হয়েছে। বাজেকদমতলা ঘাট, বাগবাজার ঘাট, নিমতলা ঘাট, জাজেস ঘাট, দই ঘাটসহ কলকাতার ২১টি ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। এর মধ্যে তিনটি বড়ো ঘাট জাজেস ঘাট, নিমতলা ঘাট এবং বাজেকদমতলা ঘাটে ক্রেন রাখা হয়েছিল।