


নয়াদিল্লি: ‘তোমার কাকু আর কখনও মুক্তি পাবে না। জেলেই বুড়ো হবে। জেলেই মারা যাবে। তোমাকে বা তোমার মতো আর কাউকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগ আর ও পাবে না।’ ধর্ষণে দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে নির্যাতিতা নাবালিকাকে এমনই চিঠি লিখলেন দিল্লির রোহিণী পকসো আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক রাজনী রঙ্গা।
সাজাপ্রাপ্তকে কাকু বলে ডাকত নির্যাতিতা শিশুকন্যা। আদালতে দাঁড়িয়ে তার আরজি ছিল, ‘কাকু বুড়ো না হওয়া পর্যন্ত যেন জেলেই থাকে।’ আদালত তার কথা শুনেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে মামলায় সাজা ঘোষণা করে দিল্লির রোহিণী আদালত। এরপর দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় অভিযুক্ত। সেখানেও দুই বিচারপতি প্রতিভা এম সিং এবং দীনেশ ভাট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাই বহাল রাখে। পাশাপাশি ১০.৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে দোষীকে। ঘটনা ২০২৩ সালের। তখন নির্যাতিতার বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। তাতেও এতটুকু ভয় পায়নি সে। আদালতে দাঁড়িয়ে চিহ্নিত করে অভিযুক্তকে। সেকথা মনে করে রায়ের শেষে প্রচলিত আইনি ভাষার বাইরে গিয়ে শিশুটিকে উদ্দেশ করে বিচারক রাজনী লেখেন, ‘তুমি সেদিন আদালতে এসেছিল। যে ব্যক্তি তোমাকে আঘাত করেছে তাকে দেখিয়ে দিয়েছিলে। সত্যি বলেছিলে। আদালত তোমার সাহসকে কুর্নিশ জানায়।’ এই চিঠি নির্যাতিতা শিশু বা তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দু-সপ্তাহের মধ্যে বার্তার সঙ্গে ক্ষতিপূরণের টাকাও পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে।