


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পথচারীদের হাঁটার জন্য রয়েছে ফুটপাত। কিন্তু, সল্টলেকে যেন নিয়মটা আলাদা! এখানে ফুটপাত ব্যবহার হয় গাড়ি পার্কিং করার জন্য! শুধু ফুটপাত নয়, রাস্তার উপরেই দিনরাত পার্কিং করা থাকে কয়েকশো গাড়ি। সল্টলেকে এমন দৃশ্যের সঙ্গে সকলেই পরিচিত। ১৫ সেপ্টেম্বর সল্টলেকে এসে এমন দৃশ্য দেখে চমকে উঠেছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। গাড়ির মালিকদের ডেকে সতর্ক করেছিলেন। নিজে হাতে মাইক নিয়ে নাগরিকদের দিয়েছিলেন সচেতনতার বার্তা। কিন্তু পুরমন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও সল্টলেক যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই! রাস্তা থেকে ফুটপাত— বেআইনি গাড়ি পার্কিংয়ের রমরমা।
সল্টলেকের রাস্তার উপর বেআইনি পার্কিং নতুন কিছু নয়। বেশ কয়েকবছর আগে বিধাননগর পুরসভা একবার অভিযান চালিয়েছিল। তখন দেখা যায়, বহু বাসিন্দার দু’টি গাড়ি। গ্যারাজ একটি। ফলে একটি গাড়ি বাড়ির সামনের রাস্তায় রেখে দেন। এমন অনেকের খোঁজ মিলেছিল, যাঁদের বাড়িতে গ্যারাজ আছে। কিন্তু তা অন্য কাজে ব্যবহার করেছেন। আর গাড়ি রাখছেন সরকারি রাস্তার উপর। পুলিশ ও পুরসভা সূত্র জানা গিয়েছে, সল্টলেকে বেআইনি পার্কিংয়ের বেশিরভাগ গাড়িই এখানকার বাসিন্দাদের। তবে কেষ্টপুর এলাকার বহু মানুষও সল্টলেকে রাতে গাড়ি পার্কিং করেন। আবার সকালে এসে নিয়ে যান। গত বছর মার্চ মাসে বিধাননগর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বেআইনি পার্কিং নিয়ে সল্টলেকে অভিযান চালানো হয়েছিল। নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে ফোন করে বহু মালিককে ডেকে গাড়ি সরানো হয়েছিল তখন। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল।
বেআইনি পার্কিংয়ের ফলে রাস্তা সংস্কার করতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হয় পুরসভা কর্তৃপক্ষকে। বছর তিনেক আগে বৈশাখী এলাকায় এক ব্যক্তি রাস্তার উপর গাড়ি পার্কিং করে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। পার্কিং করা গাড়ির অংশ ফাঁকা রেখেই রাস্তা সংস্কার হয়েছিল। পরে গাড়ি মালিক ফেরার পর গাড়ি সরানো হলে ওই অংশে পিচ পড়েছিল। সল্টলেকের বেশিরভাগ জায়গাতেই এখন রাস্তার উপর বেআইনি পার্কিং। মূল রাস্তায় কিছুটা কম হলেও ব্লকের ভিতরের রাস্তায় পার্কিং বেশি। এক আধিকারিক বলেন, ‘বেআইনি পার্কিং নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সরকারি গাইডলাইন পেলে সার্বিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’ নিজস্ব চিত্র