


সংবাদদাতা, বোলপুর: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতেই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে বিচারাধীন রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দলীয় নির্দেশে বোলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বীরভূম জেলায় ইতিমধ্যেই ১১ হাজার ৬০৬ জন বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় দুই লক্ষ বেশি ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।
অনুব্রতবাবুর অভিযোগ, বহু মানুষের কাছে জমির দলিল, পরিচয়পত্র সহ সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, জীবিত মানুষকেও মৃত বলে দেখানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। একই সঙ্গে তিনি বিহার ও বাংলায় আলাদা নিয়মে নির্বাচন প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, গোটা দেশে নির্বাচন সংক্রান্ত একটাই নিয়ম থাকা উচিত। এই প্রক্রিয়ায় আদিবাসী সম্প্রদায় ও মহিলাদের টার্গেট করা হচ্ছে। বৈধ ভোটারদের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না যায়, সেই দাবিতে জেলাশাসকের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ ও রবি মুর্মু। আশিসবাবুর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে বহু বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।
এদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন ভোটার নথিপত্র নিয়ে উপস্থিত হয়ে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। সঙ্গীতা শীল নামে একজন ভোটার জানান, তাঁদের বাড়ির তিন প্রজন্মের নামই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। শিবশঙ্কর রায় বলেন, তিনি গত বছরও ভোট দিয়েছেন, অথচ তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অর্পিতা চৌধুরীর অভিযোগ, সমস্ত নথি দেখানোর পরেও তাঁর বাবার নাম বাদ পড়েছে। ইলামবাজারের ঘুরিশার কনকা হাজরা বলেন, বেঁচে থাকতেও আমার নাম বাদ দেওয়া হল। কী জন্য বাদ দিল জানি না। যদিও দলীয় নেতৃত্ব পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। • এসআইআর ইস্যুতে বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল ও বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। -নিজস্ব চিত্র