


সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: মহানন্দা নদীর পাশে পুরাতন মালদহ শহর। জনশ্রুতি রয়েছে, ৫০০ বছর আগে এক সাধু বাচামারি এলাকায় থাকতেন। তিনি ভোরে মহানন্দায় স্নান করতে গিয়ে একটি পাত্রে কিছু মুখোশ পেয়েছিলেন। সেগুলি নিয়ে এসে তিনি মন্দিরে রাখেন। কিন্তু মাঝে মধ্যে মুখোশগুলি নীচে পড়ে থাকত। ওই সাধু স্বপ্নাদেশ পান, তাঁরা দু’বোন। বুড়ি এবং চামুণ্ডা মা। তাঁদের আলাদা রাখতে হবে। তারপর থেকে একই এলাকায় ৩০০ মিটারের বেশি দূরত্বের মধ্যে আলাদাভাবে দুটি মন্দিরে মধ্যে দুই বোনকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। সেখানে তাঁদের নিত্য পুজো হয়।
কিন্তু এত কাছে থেকেও তাঁরা সারা বছর ধরে একে অপরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান না। দুই বোনের দেখা হয় শুধুমাত্র নববর্ষে। অর্থাৎ, বৈশাখ মাসের ৩ তারিখে। ওই শহরের দুই মায়ের মুখোশ মিলন প্রথার পরম্পরা আজও চলে আসেছ।
এবার ২০টির বেশি গম্ভীরা দল থাকবে উৎসবে। বুড়ি মায়ের মন্দির কমিটির সদস্য অভিষেক সরকার বলেন, দুই মায়ের দেখা হওয়ার প্রথা ৫০০ বছরের। উৎসবের জন্য ২৮ চৈত্র থেকে আমরা নিরামিষ খাই। মূল উৎসব ২ এবং ৩ বৈশাখ। এবার বাইরে থেকে গম্ভীরা দল আসবে। ভোরে প্রচুর মানুষ মানত পূরণের জন্য বাতাসা ছিটিয়ে দেন। বুড়ি এবং চামুন্ডা মায়ের মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, ২ এবং ৩ বৈশাখ মিলন প্রথা উৎসব শুরু হবে। ২ বৈশাখ সন্ধ্যায় মায়ের আরতি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ভক্তরা মশাল নৃত্য করবেন। এরপর বাননাচের মাধ্যমে গম্ভীরা উৎসব শুরু হবে। ৩ বৈশাখ প্রথমে মন্দির থেকে চামুণ্ডা মায়ের মুখোশ নৃত্য বের হবে। অন্যদিকে, বুড়ি মায়ের বিরাট শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার মাঝে বুড়ি এবং চামুণ্ডা মায়ের মিলন করানো হয়।