


রাজা ভট্টাচার্য: রানি মা! দেওয়ানজি এসেছেন। বলছেন জরুরি প্রয়োজন,’ শ্যামা নামের দাসীটি কুণ্ঠিত গলায় বলল। ‘কখন এলেন রে? জল দিয়েছিস তাঁকে?’ জিজ্ঞাসা করলেন রানি স্বর্ণময়ী। ‘আজ্ঞে। প্রায় আধ ঘণ্টা বসে আছেন। ছটফট করছেন। বোধহয় সত্যিই জরুরি কোনো কথা আছে। লক্ষ্মী জিজ্ঞাসা করেছিল। তা বললেন না। নাকি আপনাকেই আগে জানাবেন।’
স্বর্ণময়ীর বড়ো মেয়ের নাম লক্ষ্মী। তাকে যখন বলতে রাজি হননি দেওয়ানজি, তখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথাই হবে।
স্বর্ণময়ী প্রতিদিন সকালে জলগ্রহণের আগে প্রায় এক ঘণ্টা জপ করেন। সেই সময় তিনি কারও সঙ্গে দেখা করেন না, কথাও বলেন না। রাজীবলোচন খুব ভালোভাবেই জানেন এসব ব্যাপার। তা সত্ত্বেও যখন এমন অসময়ে ছুটে এসেছেন, তখন...।
আর দেরি না করে স্বর্ণময়ী তাড়াতাড়ি তৈরি হতে লাগলেন।
কাশিমবাজার রাজবাড়িতে সব পুরানো রাজবাড়ির মতোই অন্দর আর বাহিরমহল কঠোরভাবে আলাদা। যতদিন রাজা কৃষ্ণনাথ নন্দী স্বয়ং বিষয়ের দেখভাল করতেন, ততদিন পর্যন্ত কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু রানি স্বর্ণময়ী এস্টেটের দায়িত্ব পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পর অন্দর আর বাহিরের সীমান্তে একটা ঘর আলাদা করে তৈরি করতে হল। ঘরের দু’পাশেই বসার ব্যবস্থা। মাঝখানে চিকের অন্তরাল। আজ প্রায় তিরিশ বছর হয়ে গেল, এই চিকের আড়াল থেকেই প্রকাণ্ড সম্পত্তির সুচারু দেখভাল করে আসছেন রানি স্বর্ণময়ী।
দ্রুত পায়ে অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে সেই ঘরটিতে প্রবেশ করলেন স্বর্ণময়ী। আবছাভাবে দেখা যাচ্ছে, চিকের ওপাশে পেতে রাখা গদি-মোড়া চেয়ারটাতে বসে প্রায় ছটফট করছেন রাজীবলোচন। স্বর্ণময়ী যে ঘরে ঢুকেছেন, তা বুঝতে পেরে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে মাথা নীচু করে করজোড়ে তাঁকে নমস্কার জানালেন তিনি।
‘হ্যাঁ দেওয়ানজি, বলুন। আজ এমন অসময়ে হঠাৎ এসে পড়লেন যে?’ জিজ্ঞাসা করলেন স্বর্ণময়ী। সাধারণত অন্দরমহলের নারীরা অনাত্মীয় পুরুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন না। মাঝখানে একজন দাসীকে রাখা হয়। স্বর্ণময়ীর এসব বিলাসিতার সময় নেই। অনন্ত ভূসম্পত্তি দেখাশোনা করতে হয় তাঁকে। দেওয়ানের সঙ্গে সরাসরি কথা না বললে তাঁর পক্ষে এই অসাধ্যসাধন করা সম্ভব ছিল না।
রাজীবলোচন যখন কথা বললেন, স্বর্ণময়ী বুঝতে পারলেন, তাঁর কণ্ঠস্বর আবেগে কাঁপছে, ‘আজ্ঞে, আজ ভোরবেলা তার এসেছে। সরকার বাহাদুর আপনাকে সিআই খেতাব দিচ্ছেন।’
একটু অবাক হয়ে স্বর্ণময়ী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সেটা আবার কী ব্যাপার? এমন কোনো খেতাবের কথা তো শুনিনি কখনো!’
‘শুনবেন কোত্থেকে? এই তো সবে দেওয়া শুরু হয়েছে। পুরো কথাটা ইংরেজি। বহু কষ্টে সেটুকু মুখস্থ করে এনেছি, শুনুন— মেম্বার অব দ্য ইম্পিরিয়াল ক্রাউন অব ইন্ডিয়া। আজ পর্যন্ত কোনো ভারতীয় মহিলাকে এই খেতাব দেওয়া হয়নি। আপনিই প্রথম পাচ্ছেন।’
অসম্ভব অবাক হয়ে স্বর্ণময়ী বললেন, ‘‘কেন দেওয়া হচ্ছে এই খেতাব? আমি আবার কী করলুম? এই তো ক’ বছর আগেই মহারানি খেতাব দিলেন সরকার বাহাদুর। এতদিন তবু সবাই ভালোবেসে ‘রানি-মা’ বলে ডাকত। এখন আবার মহাগৌরবে ‘মহারানি’ বলে ডাকতে আরম্ভ করেছে! জ্বালাতনের একশেষ!’’ বলে স্বর্ণময়ী এমনভাবে হাসতে লাগলেন, যেন এসব খেতাব নিতান্তই রসিকতার ব্যাপার।
স্মিত বিস্ময়ের সঙ্গে চিকের ওপাশে চেয়ারের হাতলে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকা নারীটির দিকে তাকিয়ে রইলেন রাজীবলোচন। আজ চৌত্রিশ বছর ধরে স্বর্ণময়ীর দেওয়ান হিসেবে কাজ করে চলেছেন তিনি। সমস্ত উত্থান-পতনে পাশে থেকেছেন, দেখেছেন কাছ থেকে— কী আশ্চর্য অনমনীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বর্ধমান জেলার ভাটাকুল গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের কন্যা ক্রমে রানি থেকে মহারানি হয়ে উঠেছেন।
শুধু ঘোর সুন্দরী বলেই দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সারদাসুন্দরীর বিয়ে হয়েছিল রাজবংশে। বিয়ের পর নাম বদলে রাখা হল স্বর্ণময়ী। তাঁর স্বামী কাশিমবাজারের রাজা কৃষ্ণনাথ নন্দী যখন আত্মহত্যা করলেন, তখন স্বর্ণময়ীর বয়স মাত্র সতেরো। দুই মেয়ে সমেত এই গ্রাম্য তরুণীর সমস্ত সম্পত্তি কৃষ্ণনাথের শেষ উইল অনুযায়ী অধিগ্রহণ করল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। রাজীবলোচন তখন রংপুরের মোক্তার, আটত্রিশ বছরের যুবক। আইনি জ্ঞানের খ্যাতি ছিল, কাজেই ডাক পড়ল তাঁর। সেই প্রথম স্বর্ণময়ীর হয়ে লড়াই করতে নামলেন রাজীবলোচন। কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা হল সুপ্রিম কোর্টে। প্রমাণিত হল, কৃষ্ণনাথ যখন তাঁর শেষ উইল করেছিলেন, তখন তাঁর মানসিক অবস্থা আদৌ স্বাভাবিক ছিল না। আদালতের রায়ে শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি ফিরে পেলেন স্বর্ণময়ী। তিনি হলেন রানি, আর লড়াইয়ের সঙ্গীকে, অনাত্মীয় এই অভিভাবককে তিনি নিযুক্ত করলেন দেওয়ান পদে।
সেই থেকে আজ এতগুলো বছর ধরে কাশিমবাজার এস্টেটের গুরুদায়িত্ব পালন করে এসেছেন রাজীবলোচন। এখন তাঁর বয়স বাহাত্তর। বাঙালি পুরুষেরা এই বয়সে হয় কাশীবাসী হন, নইলে নাতি-নাতনি নিয়ে অবসর জীবন উপভোগ করেন। তার বদলে রাজীবলোচন এই সকালবেলায় ছুটে এসেছেন স্বর্ণময়ীর কাছে। এত বড়ো সুসংবাদ অন্যের মুখ দিয়ে পাঠালে তাঁর যেন সুখ হত না।
‘আপনি বসুন, রানিমা। নইলে যে আমাকেও এই বয়সে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়,’ প্রসন্ন গলায় বললেন রাজীবলোচন।
ইতিমধ্যে শ্যামা এসে স্বর্ণময়ীর হাতে ধরিয়ে দিল এক গ্লাস মিছিরি-ভেজানো জল। জপের শেষে এই জলটুকুই পান করেন তিনি। রাজীবের জন্য অবশ্য এসেছে নানান ধরনের মিষ্টি। সারা জীবন প্রকাণ্ড জমিদারের দায়ভার বহন করেছেন রাজীব, নিজেও হয়েছেন রায়বাহাদুর। কিন্তু এখনও সেই সাদামাটা ধুতি আর চাদর, সেই সাধারণ আহার। হঠাৎ করে তাঁকে দেখলে কেউ ধারণাও করতে পারবে না, ইনি কাশিমবাজার রাজবাড়ির দেওয়ান।
গ্লাসটা টেবিলে রেখে বসলেন স্বর্ণময়ী। বললেন, ‘আমার প্রশ্নটার উত্তর পেলাম না যে! হঠাৎ ফের খেতাব দিচ্ছেন কেন সরকার বাহাদুর?’
‘আজ্ঞে আপনি সারাজীবন ধরে যে দানযজ্ঞ করে গেছেন, এ নাকি তারই স্বীকৃতি। তারে তো সে কথাই লেখা আছে।’
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্বর্ণময়ী বললেন, ‘গোড়ার সেই দিনগুলোর কথা আজকাল খুব মনে পড়ে দেওয়ানজি। জমিদারি আছে, অথচ সেখান থেকে কোনো খাজনা আদায় হয় না। এদিকে রাজবাড়ি বলে কথা। চৌপর যেন যজ্ঞিবাড়ি চলেছে। খরচের কোনো কমতি নেই। কত কষ্ট করে ব্যয় কমিয়ে সংসার চালিয়েছি! মেয়েরা কখনো একটা দামি শাড়ি পরেনি। আর আমি তো...।’
রাজীব চুপ করে রইলেন। সেই কৃচ্ছ্রসাধনার দিনগুলো কি ভোলা যায়? তিল তিল করে গড়ে তুলতে হয়েছে ধসে পড়া জমিদারি। কেনা হল নতুন নতুন মহাল। আজ গোটা বাংলায় তো বটেই, সুদূর উত্তর-পশ্চিমের গাজিয়াবাদ আর আজমগঞ্জেও জমিদারি কিনেছেন মহারানি।
‘আর এরা বলছেন দানের কথা। ওরে বাবা, আমি নিজে গরিব ঘরের মেয়ে। আজ ঈশ্বর হাতে দুটো টাকা দিয়েছেন। এখন যদি গরিব মানুষের পাশে না দাঁড়াই, পরলোকে গিয়ে মুখ দেখাব কেমন করে?’
একটা নিঃশ্বাস ফেলে রাজীবলোচন বললেন, ‘এমনি করে যদি সবাই ভাবত রানিমা, তাহলে পৃথিবীর চেহারা পাল্টে যেত।’
পরক্ষণেই গলা বদলে গেল তাঁর, ‘আচ্ছা, আগে কাজের কথা বলে নিই। গভর্নমেন্ট একটা অনুষ্ঠান করে এই সম্মান আপনার হাতে তুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন। তা অনুষ্ঠান কি...।’
‘হ্যাঁ, এই বাড়িতেই করতে বলুন। সরকার মশাইকে খবর দিন। আয়োজন যেন ভালো হয়, নইলে পাঁচজনের সামনে মুখ থাকবে না। তাঁরা কি তারিখ কিছু জানিয়েছে?’
‘আজ্ঞে চোদ্দোই আগস্ট অনুষ্ঠান হবে। প্রেসিডেন্সি কমিশনার মিঃ পিকক নিজে আসবেন আপনার হাতে সেই সম্মান তুলে দিতে।’
‘দেখবেন, আপ্যায়নে যেন ত্রুটি না হয়। আমার তো শুধু ওই একটিই দুঃখ। ইংরেজিতে কী যে সব বলে যায়, কিছুই বুঝতে পারি নে।’
‘দোভাষী থাকবে রানিমা। ও নিয়ে ভাববেন না।’
....
আজ কাশিমবাজার রাজবাড়ির রূপ যেন ফেটে পড়ছে। আলোর মালা পরে প্রকাণ্ড ধবধবে সাদা প্রাসাদটি মায়াপুরী হয়ে উঠেছে। প্রজারা স্বেচ্ছায় এসেছে আজকের অনুষ্ঠান দেখতে। যদিও তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন প্রধানই ভিতরে ঢোকার সুযোগ পাবেন, তবু বাইরের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়েই তাঁরা মহারানির জয়ধ্বনি করছে সোচ্চার গলায়। এই মানুষটিকে তারা মায়ের অধিক শ্রদ্ধা করে। সমবেত প্রজাদের মধ্যে এমন একজনও বোধহয় নেই, যে সরাসরি স্বর্ণময়ীর দ্বারা উপকৃত নয়। মেয়ের বিয়ে হোক বা মহাজনের জালে জড়িয়ে পড়া— সব ক্ষেত্রেই মহারানির তহবিল উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে তাদের জন্য।
মিঃ পিকক আরও একবার সবিস্ময়ে তাকালেন হাতের কাগজটির দিকে। এই ভাষণটি আজ তাঁকে পাঠ করতে হবে। স্বভাবতই, এটি লিখে দিয়েছেন তাঁর দপ্তরের কোনো করণিক। কিন্তু এখন তাতে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে গিয়ে তিনি হতবাক হয়ে যাচ্ছেন আক্ষরিক অর্থেই।
বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে রাজা-মহারাজার অভাব নেই। অধিকাংশই সমাজসেবা করেন এইসব খেতাব পাওয়ার আশাতেই। লোক পাঠিয়ে ক্রমাগত দরবার করে চলেন তাঁরা, যাতে কোনো একটা ছোটোখাটো খেতাব অন্তত পাওয়া যায়। আর ইনি, চিকের আড়ালে বসে থাকা এই মধ্যবয়সি ভদ্রমহিলা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাউকে জানতেও দেন না তাঁর দানের কথা। তবু যেটুকু সরাসরি ঘোষিত দান, যা গোপনে করার উপায় নেই, সেটুকুর হিসেবের দিকে তাকিয়েও তাঁর চোখ দু’টি বিস্ফারিত হয়ে গেল।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার সময়ও মিঃ পিকক সেই বিস্ময় লুকোতে পারলেন না। ভাষণ দেওয়ার অভ্যস্ত ভঙ্গি ছাপিয়ে উঠছে তাঁর হতভম্ব ভাবটি। স্কুল আর গ্রন্থাগার তৈরির জন্য, রাস্তা তৈরির জন্য, হাসপাতালের তহবিলে, পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের জন্য— এমন কোনো ক্ষেত্র বোধহয় নেই, যেখানে স্বর্ণময়ীর দান পৌঁছয়নি। এমন কোনো সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান নেই, যাঁরা স্বর্ণময়ীর দান পাননি। শুধু মন্বন্তরের সময়ই তিনি দান করেছেন এক লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে কেবল ঘোষিত দানের অঙ্কটাই অন্তত পাঁচ লক্ষ টাকা।
সংক্ষেপে সেই দানের একটা বর্ণনা দেওয়ার পর পিকক বললেন, ‘সবচাইতে বড়ো কথা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনি দান করেছেন গোপনে, যার উল্লেখ আমার কাছে থাকা এই তালিকায় নেই। আপনি তার বিনিময়ে কিছু প্রত্যাশা করেননি। আর হ্যাঁ, যে আশ্চর্য দক্ষতার সঙ্গে আপনি নিজের বিশাল বিস্তৃত জমিদারি পরিচালনা করেছেন, তা এই দেশের নারীদের মধ্যে অতুলনীয় না হলেও অতি বিরল।’
চিকের আড়ালে বসে মৃদু হাসলেন স্বর্ণময়ী। সরকার তাঁর দানের পূর্ণ অঙ্কটি জানে না। এগারো লক্ষ টাকার বেশি তিনি দান করেছেন ইতিমধ্যেই। কিন্তু সেই কথা সগর্বে বলার নয়। মানুষের দুঃখ যে অনুভব করে, সে আর ‘দান’ করার গৌরব চায় না। সে শুধু দিয়েই ধন্য হয়।
মিঃ পিকক তাঁর ভাষণ শেষ করেছেন। বাইরে থেকে ভেসে আসছে অগণিত প্রজার হর্ষধ্বনি। এই প্রথম এই খেতাব পেয়েছেন কোনো ভারতীয় নারী এবং তা ইংরেজ সরকারের অনুগ্রহ হিসাবে নয়। একজন সফল মানবদরদি মহিলা জমিদার হিসাবে, যাঁকে খাজনা আদায়ের জন্য কখনো প্রজার উপর অত্যাচার করতে হয়নি। আর সেই অর্থ নানা ছলে তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদেরই কাছে।
একজন মেমসাহেব এসে স্বর্ণময়ীর হাতে তুলে দিলেন খেতাবের প্রতীক, আরও অজস্র উপহার। অনর্গল ইংরেজি ভাষায় তিনি প্রশংসা করে চলেছেন স্বর্ণময়ীর।
উত্তরে ধন্যবাদ জানালেন স্বর্ণময়ী। বললেন, উপযুক্ত ইংরেজি জ্ঞান না থাকায় তিনি উপস্থিত শ্বেতাঙ্গ রমণীদের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারলেন না।
আসলে অবশ্য একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা ভাবছিলেন স্বর্ণময়ী। ইংরেজি না জানা থাকলেও বাংলা ভাষায় তাঁর দখল অসামান্য।
আর তাই আজ প্রথম তিনি খেয়াল করলেন— কী আশ্চর্য, ‘দানবীর’ বা ‘ভূস্বামী’ শব্দগুলির কোনো স্ত্রীলিঙ্গবাচক প্রতিশব্দ নেই!