


রবীন দাস, রাস আল খাইমা: রাতের আকাশের দিকে তাকালে যেন ফুলঝুরি। দিনের বেলা সাদা ধোঁয়ার রেখা। মনে হচ্ছে এইমাত্র যেন কোনো রকেট চলে গেল। তবে পার্থক্য একটাই। ছোটবেলায় আকাশে এসব দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতাম। এখন কেবলই আতঙ্ক গ্রাস করেছে। জানি না কখন আছড়ে পড়বে কোনো মিসাইল। রবিবার থেকে এভাবেই দিন কাটছে। সোমবার সকাল থেকে অন্তত ৪০টি বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছি। আমি রয়েছি রাস আল খাইমা বলে একটা স্থানে। দুবাই থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের এই স্থানকে গঞ্জ বলা যায়। তবে বাড়ি-ঘর জীবনযাত্রা সবই অত্যাধুনিক শহরের মতোই। এখনও এই জায়গা অনেকটা ফাঁকা। তবে অনেকেই বলছেন ‘নতুন দুবাই’ হতে চলেছে এই রাস আল খাইমা।
হুগলি জেলার কোন্নগর থেকে দু’বছর আগে নির্মাণকর্মী হিসাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এসেছি। প্রথমে থাকতাম জাবেল আলি নামে এক স্থানে। পরে কোম্পানির কাজের সুবিধার্থে পাঠানো হয় বার দুবাই বলে দুবাইয়ের কাছের এক শহরে। সেখানেই রয়েছে সেনার ক্যাম্প। হঠাৎই ২২ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ক্যাম্প বদল করতে বলা হয়। কিছুটা অবাকই হয়েছিলাম। তবে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলে আসি রাস আল খাইমায়। রবিবার যখন মুহূর্মুহূ বোমার শব্দ শুনতে পাচ্ছি, তখন বুঝতে পারলাম সরানোর কারণ।
আমি যে ক্যাম্পে রয়েছি, সেখানে৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভারতীয়। এরমধ্যে আবার ২৫ শতাংশই বাঙালি। রবিবার আমাদের সঙ্গে দেখা করেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। তাঁদের নির্দেশ, সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা যখন কাজ করব, সে সময় যেন একজন সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে আশপাশে নজর রাখে। তাদের কাজ হবে আকাশে অস্বাভাবিক কিছু দেখলেই আমাদের সতর্ক করা। আর আমাদের তখনই দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে। আর আজ থেকে তো কাজই বন্ধ হয়ে গেল! সোমবার রাতে জানানো হবে, মঙ্গলবার কাজ হবে কি না।
সোমবার সকালটাই শুরু হয়েছে বোমার শব্দে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৩ নাগাদ ৩টে বোমার শব্দ শুনতে পেলাম। স্থানীয়রা বলছেন, অন্তত ৩০ কিলোমিটার দূরে বোমা পড়ছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি যে শোনা যাচ্ছে এখান থেকে। এরপর সারাদিন ধরে একের পর এক বোমার শব্দ শুনতে পাচ্ছি। এ লেখা যখন শেষ করছি তখনও বোমা পড়ছে। আতঙ্কে রয়েছি।