


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: সূর্যগ্রহণ কবে? রথযাত্রা কবে পড়েছে? কিংবা মহাষ্টমীর অঞ্জলির শুভ সময় কখন? এসবের তারিখ, ক্ষণ এবং সময় খোঁজার জন্য বাঙালির একটাই গন্তব্যস্থল, ‘পঞ্জিকা’। দৈনিক রাশিফল হোক কিংবা পূজার্চনা, অনুষ্ঠানের নির্ঘণ্ট, সবটাই লিপিবদ্ধ থাকে পঞ্জিকার পাতায়। বাংলা নববর্ষ থেকে আম বাঙালির পঞ্জিকার পাতা ওল্টানোর যে সূত্রপাত ঘটে তা বছরভর কালের নিয়মে একইভাবে চলেছে। স্থান, কাল, সময় এবং পঞ্জিকা— এসবেরই সংমিশ্রণ নাকতলা উদয়ন সংঘের পুজো মণ্ডপে।
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম সেরা পুজোর তালিকায় বিগত কিছু বছর ধরে জায়গা করে নিয়েছে নাকতলার উদয়ন সংঘ। প্রতিমা, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা, থিমের অভিনবত্বে প্রতিবছরই উদয়ন হচ্ছে নাকতলায়। এবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ৪০তম বর্ষে তাদের থিম, ‘কালধ্বনি’। বাংলার পঞ্জিকার সঙ্গে জুড়ে থাকার সময় নিয়েই এবার তাদের পুজোর ভাবনা। শিল্পী অনির্বাণ দাসের পরিকল্পনায় সেজে উঠেছে প্রতিমা থেকে মণ্ডপ। আর তাতে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছে স্বনামধন্য আলোক শিল্পী দীনেশ পোদ্দারের আলোকসজ্জা। বাঙালি পঞ্জিকার পাতা ওল্টান দৈনিক রাশিফল দেখার জন্য। পঞ্জিকাতে রাশিফল কিভাবে দেখা হয় সেটাও মণ্ডপে জানানো হয়েছে। আবার সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, তিথি, নক্ষত্র, অনুষ্ঠানের সময়সূচি পঞ্জিকার পাতায় যেভাবে লিপিবদ্ধ থাকে, সেসবই উঠে এসেছে মণ্ডপে। যেহেতু দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট হয় পঞ্জিকায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। তাই পঞ্জিকাটাই এবারের পুজোয় তুলে ধরার প্রয়াস উদয়ন সংঘের। পঞ্জিকার পাতায় যেভাবে ছবি দেওয়া থাকে বা যে হরফে তথ্য লেখা থাকে সেটারই বৃহৎ সংস্করণ চোখে পড়বে পুজোপ্রাঙ্গণে। আসলে বাঙালির সঙ্গে পঞ্জিকার যে নস্টালজিক বিষয় জন্ম জন্মান্তরে রয়েছে, সেটাই শিল্পের মাধ্যমে উপস্থাপনা। প্রতিমাও যেমন অপরূপ শোভাবর্ধন করেছে, তেমনি মণ্ডপ চত্বরজুড়ে সাদা কালোর দুর্ধর্ষ আলোসজ্জা আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে দর্শনার্থীদের কাছে। ১৯৮০ সালে সত্যজিৎ রায় হীরক রাজার দেশে সিনেমাতে রাজজ্যোতিষী ছিলেন। যিনি ভবিষ্যৎ গণনা করতেন। আর নাকতলার উদয়ন সংঘ এবার পঞ্জিকার পাতা ওল্টাচ্ছ। পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা সন্দীপ দাশগুপ্তর কথায়, শহরের সেরা পুজোর ডেস্টিনেশন এবার নাকতলা উদয়ন সংঘ।
অন্যদিকে নাকতলা সম্মিলনী ক্লাবের পুজো এবার দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এবারে তাদের পুজো ৭১ বছরে পা রেখেছে। ভারতের গৌরবময় ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্যকে মণ্ডপ শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে ইতিহাস ছুঁয়ে দেখা এবং আগামী প্রজন্মের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া, এটাই তাদের পুজোর মূল ভাবনা। ভারতের ঐতিহাসিক স্থাপত্য কীর্তিকে অবলম্বন করে দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে মণ্ডপ। ক্লাবের কর্তা দেবাশীষ চক্রবর্তী জানান, এবছর আমাদের বিষ্ণুপুরের টেরাকোটার মন্দির তৈরি করা হয়েছে। নাকতলা উদয়ণ সংঘের প্রতিমা। নিজস্ব চিত্র