


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতি মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ ব্যাকটেরিয়ার হানাদারি সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ দিব্য বেঁচেবর্তে আছেন। অসুখের সঙ্গে দিব্য লড়াইও করে যাচ্ছেন। সকলের অন্তরালেই চলছে এই প্রক্রিয়া। কিন্তু কীভাবে এটা সম্ভব হচ্ছে? দেহের ইমিউনিটি সিস্টেমে কী এমন জাদু আছে, যাতে ব্যাকটেরিয়া যুদ্ধে মানুষ জিতে চলেছে? কী সেই অস্ত্র, যা কি না, জীবাণুর সঙ্গে লড়াইয়ে মানুষের শেষ হাতিয়ার? যা না থাকলে প্রতি মুহূর্তে দেহে হু হু করে সংক্রমণ বেড়ে চলত। বম্বে আইআইটি’র খ্যাতনামা এক মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং তাঁর সহযোগী গবেষকরা বের করে ফেললেন সেই উত্তর। জানা গিয়েছে ব্যাকটেরিয়া যুদ্ধে মানবকোষের শেষ অস্ত্রের কথা। চাঞ্চল্যকর সেই গবেষণা সাড়া ফেলেছে বিশ্বজুড়ে। সদ্য প্রকাশিত হয়েছে নেচার মাইক্রোবায়োলজির মতো বিশ্ববন্দিত জার্নালে। ডঃ অনির্বাণ ব্যানার্জি নামে বম্বে আইআইটি’র সেই অধ্যাপক বর্তমানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কোষের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী সেই অস্ত্রটি আসলে এক ধরনের প্রোটিন। নাম ‘পি ৯৭’।
কীভাবে জানা গেল এই তথ্য? আইআইটি মুম্বইয়ের বায়ো-সায়েন্সেস ও বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ডঃ ব্যানার্জি, গবেষক সৌরভ ঘোষ সহ ১৮ জন বিজ্ঞানী, গবেষক ও ছাত্রছাত্রী সালমোনেল্লা, স্টেপটোকক্কাস প্রভৃতি প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া নিয়ে কাজ করে এই সত্যে উপনীত হয়েছেন। বিজ্ঞানীমহল সূত্রের খবর, যে কোনও ব্যাকটেরিয়া যখন কোষে প্রবেশ করে, তখন তা একটি আস্তরণ বা ফ্যাবোজোমের মধ্যে থাকে। ব্যাকটেরিয়াগুলি সেই ফ্যাবোজোমের আস্তরণ ভেদ করে কোষের ক্ষতি করতে প্রবৃত্ত হয়। যখন তারা এই কাণ্ড ঘটায়, মানবকোষও বাধা দেওয়ার জন্য সক্রিয় হয়। তারা ব্যাকটেরিয়াগুলির গায়ে ইউবিকুইটিন নামে এক ধরনের ‘ডেথট্যাগ’ বা মৃত্যু পরোয়ানা লাগিয়ে দেয়। যাতে কোষের পক্ষে নিকেশ করার জন্য তাকে চিহ্নিত করা সহজ হয়। পরের ধাপে ‘ডেথট্যাগ’ লাগানো ব্যাকটেরিয়াগুলিকে কোষ প্রোটিয়াজোম নামে একটি টানেলে ঢোকানো মাত্র সেগুলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। এতদিন এই তথ্যই জেনেছিলেন বিজ্ঞানীরা।
কিন্তু, বাস্তব হল ওই টানেলের ব্যাস ৫-৬ ন্যানোমিটার। আর একটি ব্যাকটেরিয়ার ব্যাস কমবেশি ১ মাইক্রোমিটার, যা টানেলের ব্যাসের থেকে অনেক গুণ বেশি। তাহলে? নয়া আবিষ্কার দেখিয়েছে, টানেলে ঢোকার আগে এই ‘পি ৯৭’ প্রোটিন ব্যাকটেরিয়ার শরীরে লেগে থাকা অত্যন্ত জরুরি প্রোটিন টেনে খুলে দেয়। এমনভাবে এই কাজ হয়, যাতে ব্যাকটেরিয়াটি মারা যায়।