


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কিডনি পাচার চক্রের তদন্ত যত এগচ্ছে, ততই সামনে আসছে চমকে দেওয়া তথ্য। এবার জানা গেল, এই পাচারচক্রের মাধ্যমে যাঁদের শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হতো, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুদূর আফ্রিকার একাধিক বাসিন্দা! এখনও পর্যন্ত এই কারবারে জড়িত অভিযোগে যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের জেরা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে অশোকনগর থানার পুলিস। তারা জেনেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কিডনির যা দাম, সেই তুলনায় অনেক কম দামে কলকাতা বা লাগোয়া এলাকায় এই চক্রের মাধ্যমে কিডনি জোগাড় করা যায়। এই সুযোগই নিতেন আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের গ্রহীতারা। নির্দিষ্ট ‘লিঙ্কম্যান’-এর মাধ্যমে তাঁরা যোগাযোগ করতেন চক্রের সঙ্গে। ঘানা, কম্বোডিয়া থেকে শুরু করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানের বহু বাসিন্দা এই কাণ্ডে জড়িত দক্ষিণ কলকাতার নামজাদা নার্সিংহোমেই কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন বলে খবর। তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, ঋণের বোঝা চাপিয়েই শুধু নয়, কারও জরুরি প্রয়োজনে মোটা টাকার বিনিময়েও কিডনি জোগাড় করে দিত এই চক্র।
কিন্তু ভিন দেশের নাগরিকদের কলকাতার হাসপাতালে রেখে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি প্রক্রিয়া সারতে হয়। সেক্ষেত্রে আইনি ঝক্কি সামলে দিতেন ইতিমধ্যে তদন্তকারীদের আতস কাচের তলায় থাকা এক আইনজীবী।
তদন্তে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্যের গ্রহীতাদের নাম উঠে এসেছে। এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার কিডনি দাতারা সরাসরি যোগাযোগ করতেন এই র্যাকেটের কারও সঙ্গে। কলকাতার কয়েকটি নামকরা নেফ্রোলজি সেন্টারের দালালের মাধ্যমে দাতা ও গ্রহীতার ব্যবস্থা হয়ে যেত। কিন্তু আফ্রিকা সহ ভিন দেশের ‘বিদেশি ক্লায়েন্ট’দের সঙ্গে এই পাচারচক্রের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘লিঙ্কম্যান’ কে বা কারা, তা এখন জানতে পারেনি পুলিস। পুলিসের একটি বিশেষ টিম ভিন রাজ্য ও বিদেশের কিডনি গ্রহীতাদের স্ক্যানারে রেখে ‘লিঙ্কম্যান’দের খোঁজ চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে ধৃতরা অশোকনগর এলাকার পাঁচ-ছ’জনের ক্ষেত্রে সুদের চাপে কিডনি বিক্রির কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিসের। তবে কয়েকজন কিডনি বিক্রি করেছেন নিজের প্রয়োজনে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কিডনি বিক্রির টাকায় তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মিটিয়ে বাইক বা দামি মোবাইলও কিনেছেন। আগামীতে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিস। বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝারখড়িয়া জানিয়েছেন, আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।