


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামি চুরি ইস্যুতে সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে। মঙ্গলবার এই দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসও সুর চড়াল। দাবি করল, মন্দিরের ভিত পুজো থেকে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা, ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা— সবই করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাহলে চুরির ব্যাখা কেন দেবেন না মোদি? রামমন্দির ইস্যুতে সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশন উত্তাল করবে বিরোধীরা। একইসঙ্গে প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতেও সরব হবে তারা। আগামী ২০ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট চলবে সংসদের অধিবেশন।
এদিন এক প্রশ্নের উত্তরে দলের সাংবাদিক সম্মেলনে সহকর্মী সাংসদ কীর্তি আজাদকে পাশে নিয়ে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে ২০২০ সালে রামমন্দির ট্রাস্টের কথা কে ঘোষণা করেছিলেন? স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাহলে কী করে সেই ট্রাস্টকে প্রাইভেট আখ্যা দিয়ে আরটিআই-এর আওতার বাইরে রাখা হবে? রামমন্দিরে চুরি নয়, লুট হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদেই ব্যাখা দিতে হবে।
একইভাবে পৃথক এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেন, রামমন্দিরের চুরির ঘটনা হিন্দুদের আস্থার ওপর আঘাত। স্রেফ বিজেপি, আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদই নয়। আমরাও চাঁদা দিয়েছি। মন্দির গড়ার কাজে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাজস্থানের খনি থেকে পাথর পাঠানোর কাজে সাহায্য করেছি। সেই মন্দিরে চুরি ধরা পড়ার পরেও স্রেফ কয়েকজন চুনোপুঁটিকে গ্রেপ্তার করে কী হবে? রাঘব বোয়ালদের ধরতে হবে।
একইসঙ্গে অশোক গেহলটের দাবি, বর্তমান ট্রাস্ট ভঙ্গ করতে হবে। কেন ওই ট্রাস্টে বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের লোক থাকবে? এরপরেই বিজেপির ঘরেই আগুন ধরানোর ‘কৌশলে’ গেহলটের মন্তব্য, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ট্রাস্টের প্রধান হন। আর যা চুরি হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। কোনোভাবেই ভগবানের নামে চুরি চলবে না।