


রাজদীপ গোস্বামী শালবনী
একসময় মাওবাদী আন্দোলনের জেরে গ্রামের মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন। সেইসঙ্গে সিপিএম নেতাদের চোখরাঙানি তো ছিলই। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গেলেও বাড়ি ফিরতে ভয় পেতেন। এমনই ছবি ছিল শালবনী পঞ্চায়েতের। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই ছবিটা পুরো বদলে গিয়েছে। এলাকায় শান্তি ফিরেছে। পঞ্চায়েতের তৃণমূল বোর্ড একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করে মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। গত অর্থবর্ষে এই পঞ্চায়েত এলাকায় আটটি রাস্তা সংস্কার হয়েছে। এজন্য প্রায় ২৮লক্ষ টাকা খরচ হয়। স্থানীয়রা জানান, আগে সন্ধ্যার পর মানুষ ঘর থেকে বেরতে ভয় পেতেন। শালবনীতে বিরোধী দলের কোনও নেতাকর্মীর কথা বলার অধিকারও ছিল না। তৃণমূলের বহু কর্মী ঘরছাড়া ছিলেন। এখনও সেই সব দুঃসহ দিনের কথা শালবনীর মানুষের মনে রয়েছে। শালবনী পঞ্চায়েতের প্রধান শক্তি পাল বলেন, এই পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর কাজ হয়েছে। আগামী দিনে আরও কাজ হবে। চলতি বছরে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এখন শালবনী পঞ্চায়েত তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। গত পঞ্চায়েত ভোটে এখানকার ২২টি আসনের মধ্যে ১৮টি ঘাসফুল শিবির দখল করে। সিপিএম ও বিজেপি মাত্র দু’টি করে আসন পায়। নতুন বোর্ড গঠনের পরই এলাকায় কাজের গতি বেড়ে যায়। গত অর্থবর্ষে পঞ্চায়েতের আটটি রাস্তা সংস্কার ছাড়াও আটটি পানীয় জলের প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। এলাকায় ১৬টি নিকাশিনালা তৈরি হয়েছে। এজন্য প্রায় ৫২লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। পঞ্চায়েত অফিসকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। পঞ্চায়েতে উদ্যোগে প্লাস্টিক দূষণ রুখতে নানা পদক্ষেপ করা হয়েছে। শালবনী পঞ্চায়েতে ৭৮২জন বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর পাচ্ছেন। উপপ্রধান সৌমেন ঘোষ বলেন, এই এলাকায় বিরোধীদের আর অস্তিত্ব নেই। মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। পঞ্চায়েত থেকেও ভালো পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে শালবনী পঞ্চায়েতে এখনও কিছু রাস্তা খারাপ। বেশকিছু এলাকায় জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতিও প্রয়োজন। অনেক এলাকায় রাস্তায় আলো নেই। যুব তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ সিংহ বলেন, এই পঞ্চায়েত খুবই ভালো কাজ করছে। বাম আমলে কোনও কাজ হতো না। সেই তুলনায় এখন কাজের গতি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের তরফে সবসময় মনিটরিং করা হয়। সর্বোপরি শান্তি ফিরে আসায় এলাকার মানুষ খুশি।-নিজস্ব চিত্র