


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মাঝবয়সি ব্যক্তি সকাল বেলা বেরিয়েছিলেন বিদ্যুতের বিল জমা দিতে। হঠাৎ, বাইক করে আসে দু’জন। পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে, ‘আপনি সোনার হার পরে যাচ্ছেন। জানেন না, কাল এখানেই ছিনতাই হয়েছে। আপনি এগুলো খুলে যান।’ পুলিশ যখন বলছে, তখন খুলে নেওয়াই ভালো, এই ভেবে গলায় থাকা ৩টি সোনার চেন খোলেন। পাশে থাকা অপরজন একটি কাগজ বাড়িয়ে দিয়ে বলে, এখানে রাখুন। কিছুটা দূরে গিয়ে ওই ব্যক্তি মোড়ানো কাগজ খুলে দেখেন, ভিতরে কয়েকটা লোহার আংটি। তার সোনার হার উধাও! পুলিশ পরিচয় দিয়ে এমনই অভিনব কেপমারির ঘটনা ঘটল বাগুইআটির প্রফুল্লকানন এলাকায়। প্রতারিত ব্যক্তি এ ব্যাপারে বুধবার বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকমাস আগে বাগুইআটিতেই এই ধরনের একটি কেপমারির ঘটনা ঘটেছিল। ফের একই ধরনের ঘটনা। প্রতারিত ব্যক্তির বাড়ি বাগুইআটির মিলন বাজার, চণ্ডীবেড়িয়া এলাকায়। তিনি ৭ সেপ্টেম্বর সকালে প্রফুল্লকানন এলাকায় ইলেকট্রিক অফিসে বিদ্যুৎবিল জমা করতে যাচ্ছিলেন। ৯টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি অফিসের কাছাকাছি চলে যান। দু’টি বাড়ি আগে হঠাৎ, একটি বাইকে করে ওই দু’জন আসে। তারা পুলিশ পরিচয় দেওয়ায় তিনি তাদের সঙ্গে কথাও বলেন। ভুয়ো পুলিশকর্মীরা যখন সোনার চেন খুলতে বলে, তখন তিনি কিছু না ভেবেই খুলে ফেলেন। তারপর পকেটে ভরতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু, দুষ্কৃতীরা তাকে একটি কাগজ বাড়িয়ে দিয়ে, তাতে রাখতে বলে।
অন্যমনস্কতার সুযোগে কাগজে মোড়ানো তিনটি সোনার চেন নিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। তাঁর হাতে ধরিয়ে দেন লোহার আংটি রাখা অন্য একটি কাগজ। দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই ওই আংটি ভরা কাগজ নিয়ে এসেছিল। দুষ্কৃতীরা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে যাওয়ার সময় বলে যায়, হাতে করে সোনার চেনগুলো সাবধানে নিয়ে যান। অফিসের কাছে গিয়ে ওই ব্যক্তি কাগজ খুলে দেখেন—চেন নেই! মরচে পড়া আংটি! পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের খোঁজ চলছে।