


স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ছোট একটা ডিজিটাল যন্ত্র। আদতে স্ক্যানার। ম্যানুয়াল বা ডিজিট্যাল কি-প্যাডের উপর রাখলেই শেষ ব্যক্তি কোন কোন সংখ্যায় (নিউমেরিকস) চাপ দিয়েছেন তার ছবি উঠবে স্ক্যানারে। আর তার থেকেই জানা যাবে ‘গোপন দরজা’ খোলার পাসওয়ার্ড—হলিউড সিনেমায় এই দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন। এবার এই প্রযুক্তিকেই কাজে লাগিয়ে এটিএম ও পিওএস মেশিন থেকে আম জনতার টাকা হাতানোর ফন্দি এঁটেছে প্রতারকরা। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বেশকিছু অভিযোগ জমা পড়েছে সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে। তাতেই রীতিমতো উদ্বিগ্ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিশেষ বার্তা দিয়েছে। ইতিমধ্যে সব রাজ্যের সাইবার বিভাগকেও সচেতনতা বার্তা প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
পুলিশি ভাষায় নয়া প্রতারণার নাম—‘হিট সিগনেচার ক্রাইম’। এই নয়া পদ্ধতিতে টাকা হাতানোর ক্ষেত্রে জালিয়াতদের টার্গেট রক্ষীবিহীন এটিএম, দোকান কিংবা শপিং মলের পিওএস মেশিন। কীভাবে চলছে এই প্রতারণা? রক্ষীবিহীন এটিএমে ঢুকে প্রথমে স্কিমার মেশিনের সাহায্যে গ্রাহকের ডেবিট কার্ডের তথ্য হাতাচ্ছেন প্রতারকরা। কিন্তু, এরপরেও টাকা হাতাতে অনেক ঝক্কি। সে সব পোহাতে আর রাজি নয় প্রতারকরা। বরং ইনফ্রারেড রশ্মির বিশেষ স্ক্যানার কিনছে তারা। এটিএম মেশিন ব্যবহার করে গ্রাহক বেরিয়ে যাওয়ার পরই সেই স্ক্যানার নিয়ে কি-প্যাডের উপর রাখছে প্রতারকরা। তাতেই কেল্লাফতে! যে ৪টি সংখ্যার উপর গ্রাহক চাপ দিয়েছেন, সেই জায়গাগুলির থার্মাল ইমেজ চলে আসছে স্ক্যানারে। সংখ্যাগুলির সাহায্যে প্রতারকরা জেনে যাচ্ছে গ্রাহকের পিন। স্কিমার মেশিনের সৌজন্যে ডেবিট কার্ডের তথ্য আগেই হাতে ছিল। এবার পিন হাতে এসে যাওয়ায় অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব করতে আর অসুবিধা থাকল না। লালবাজার সূত্রে খবর, সম্প্রতি গরফা থানা এলাকার এটিএম থেকে এই পদ্ধতিতেই এক প্রবীণ গ্রাহকের লক্ষাধিক টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। সেই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করেছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত ব্যক্তি নেপাল দাস কোনও বড় জালিয়াতি গ্যাংয়ের সদস্য কি না, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থার্মাল ইমেজটি ব্যবহার করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে সঠিক পিন হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। শুধুমাত্র ৪টি নম্বরের থার্মাল ইমেজ বা হিট সিগনেচার পেলেও সঠিক পিন জেনারেট করা সম্ভব নয়। একাধিকবার ভুল পিন এটিএম মেশিনে দিলে অ্যাকাউন্ট লক করে দেয় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তাই এখানেও প্রতারকদের ভরসা এআই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে রেস্তরাঁ, দোকান, শপিং মলের পিওএস মেশিনে ডেবিট কার্ড ব্যবহারে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। কারণ, বেশি তথ্য গায়েব হচ্ছে এখান থেকেই। তাহলে প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় কী? এটিএম ব্যবহার হয়ে গেলে পিন কি-প্যাডের সবকটি সংখ্যার উপর হাত ঘষে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ। বলছে, রক্ষীবিহীন এটিএমগুলি এড়িয়ে চলুন গ্রাহকরা। একইসঙ্গে, নিজস্ব লেনদেন ছাড়া ব্যাঙ্ক থেকে টাকা ডেবিট হলে দ্রুত সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অভিযোগ করার ব্যাপারেও জোর দিচ্ছে পুলিস।