


...মা আমি সাদা ফুল কালো রং দিয়ে আঁকছি...সাদা ফুল কালো রং দিয়ে আঁকছি কিন্তু। সাদা রং নেই...’
পিকু ছবিতে চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় এক বাচ্চার মুখে এই সংলাপ বসিয়েছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে এটা একটা সংলাপ মাত্র। কিন্তু মনস্তত্ত্বের নিরিখে এর গাঢ় অর্থ রয়েছে। একটা শিশুর মনে বাবা বা মায়ের সম্পর্কের বিচ্ছেদ এই সংলাপের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। বাবা মায়ের ক্রমাগত ঝগড়া হলে, সন্তানের সামনে তাদের মতবিরোধ হলে বাচ্চার মনেও একটা কালো ছাপ
পড়ে। তখন আর কোনও কিছুই স্বচ্ছ থাকে না তার চোখে। সাদা ফুলকে অন্য কোনও রং না করে সে কালো দিয়ে আঁকতে চায়।
বাবা এবং মায়ের মাঝে তৃতীয় কোনও ব্যক্তি এলে সন্তানের উপর তার কতটা এবং কীরকম প্রভাব পড়ে সেটাই বিস্তারিত জানালেন মনস্তত্ত্ববিদ ডাঃ দেবাঞ্জন পান। তাঁর কথায়, বাচ্চার কাছে বাবা হল সবচেয়ে বড় বিশ্বাসের জায়গা। ফ্রয়েডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটা বাচ্চা তার বাবাকে দিয়েই প্রথম ভরসা করতে শেখে। এবার এই কনসেপ্টগুলো সবই কিছু ক্ষেত্রে আপেক্ষিক তো বটেই। তবু সাধারণভাবে দেখলে বোঝা যাবে শতকরা আশিভাগ বাচ্চাই এই পৃথিবীতে এসে জ্ঞান হওয়ার পর থেকে ক্রমশ বাবাকে দেখেই বিশ্বাস এবং ভরসার কনসেপ্টগুলো গড়ে তুলতে থাকে মনে মনে। কখনও হয়তো অবচেতনেই এই ভাবনাগুলো গড়ে ওঠে। কিন্তু শুরুটা হয় বাবাকে দেখেই। ফলে বাবার আচরণগত সঠিক থাকা, অন্তত বাচ্চার সামনে খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে বাচ্চা যখন একটু বড় হয়ে উঠছে তখন যদি সে দেখে তার বাবা মায়ের মধ্যে সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়, তাহলে সেটা তার মনের উপর এক ধরনের প্রভাব ফেলে। কিন্তু যদি সে দেখে যে বাবা মাকে অবহেলা করছে অথচ অন্য মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলছে তাহলে প্রথম যেটা বাচ্চার মনে টলে যেতে পারে সেটা হল বিশ্বাস। এবং এই যে বিশ্বাসহীনতা, যেটা হয়তো নিজের অজান্তেই শুরু হয়, সেটা কিন্তু সে আগামী দিনেও নিজের জীবনে বয়ে নিয়ে বেড়াবে। এই বিশ্বাসহীনতা বাচ্চাটার ভবিষ্যৎ সম্পর্কের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত বন্ধুত্ব, প্রেম, বিয়ে জাতীয় সম্পর্কে অপরজনকে বিশ্বাস করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয়, বাচ্চাটা নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করবে। বাবার সঙ্গে হয়তো বাচ্চাটা খুব খোলাখুলি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করত সেটা বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু বাবার সঙ্গেই নয়, পরিবারের অন্যদের সঙ্গেও তার আচরণে তফাত ঘটবে। প্রাণখোলা হাসি, প্রচণ্ড কান্না, মনখারাপ ইত্যাদি সবই তার স্বভাব থেকে উধাও হয়ে যাবে। ফলে সে স্বাভাবিক আচরণ করতে পারবে না। অথচ এই আবেগগুলো তো আর প্রকৃত অর্থে উধাও হয়ে যায় না। সেগুলো মনের মধ্যে অবদমিত থাকে। ফলে এই চাপা আবেগগুলো নিয়েই বাচ্চাটা বড় হয়। মনে মনে একটা খারাপলাগা, নিজেকে প্রকাশ করতে না পারার যন্ত্রণা তার মধ্যে থেকেই যায়। এই যে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, এটা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে তাহলে বাচ্চার মনে অবসাদ বাসা বাঁধবে। এটা আমরা অনেক সময়ই দেখি। আর সেই অবসাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেক সময়ই প্রচণ্ড রাগ বা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাচ্চাটা ছোট থেকেই নিজেকে সবার সামনে সঠিকভাবে মেলে ধরতে পারে না বলেই হয়তো মনে মনে একটা রাগের সূচনা ঘটে। সেটাই হঠাৎ কোনও সূত্র ধরে ঠেলে বেরিয়ে আসে। ‘ইর্যাটিক বিহেভিয়ার’ বা অসংগত আচরণের শিকার হয়ে পড়ে বাচ্চাটা নিজের অজান্তেই।
এবার আসি মায়ের প্রসঙ্গে। সন্তানের মনে মা হল নির্ভরতার জায়গা। এই নির্ভরতা যখন টলে যায় তখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাচ্চার আত্মবিশ্বাস। তখন অন্য কারও কাছে নির্ভরতা খোঁজার জন্য বাচ্চার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। হয়তো বাড়ির কাজের মাসি, পাড়ার কোনও কাকিমা বা পিসিমা স্থানীয় মহিলার কাছে এই নির্ভরতা খুঁজতে শুরু করে বাচ্চাটা। এবং এই সময় অনেকেই সেই বাচ্চার মানসিক অনিশ্চয়তার সুযোগ নেয়। মায়ের মতো নির্ভরতা দিতে পারে না। ফলে তার থেকে শিশু মনে কিছু অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তার মানসিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যায় আচরণের সৃষ্টি হয় বাচ্চার মনে। এবং সেই আচরণ হয়তো বা তার পরবর্তী জীবনকেও প্রভাবিত করে।
এই যে শিশুমনের উপর খারাপ প্রভাব, এটাকে আবার দু’ভাবে দেখা যেতে পারে। তাৎক্ষণিক প্রভাব আর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। তাৎক্ষণিক প্রভাব হলে ক্ষতির মাত্রা তুলনায় কম হয়। বা শিশু বয়সে কিছু ভুলভাল কাজ করলেও পরবর্তীতে সেটা সামলে নিয়ে সে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারে। কারণ বাচ্চার মন স্বভাবতই কৌতূহলী এবং উৎসুক। ফলে ক্ষণস্থায়ী প্রভাব এড়িয়ে তার মন অন্যত্র আকৃষ্ট হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে নির্ভরতার অভাব বিশাল কোনও পরিবর্তন ঘটাতে পারে না।
কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব যদি পড়ে তাহলে শিশুমনের উপর স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব পড়ে এবং সেটা যদি ক্রনিক হয়ে যায় তাহলে সেটা নির্দিষ্ট বিপদসীমার উপর দিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাচ্চার ‘নিউ লার্নিং’ বা জানার প্রতি আগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক সময় এই আগ্রহ বন্ধই হয়ে যায়। শেখার কেন্দ্রটা প্রভাবিত হয়। তখন তার মনোযোগ বিঘ্নিত হয়, পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নতুন কিছু জানার ইচ্ছে হারিয়ে যায়। যার ফলে তার মানসিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে আনমনা, উদাসীন হয়ে পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় এই প্রভাবের কারণে বাচ্চাটার নিজের প্রতি একটা সংশয়ও কাজ করতে শুরু করে। মায়ের আচরণের জন্য সে নিজেকে দোষ দিতে থাকে। সমাজে সবার সঙ্গে মিশতে লজ্জা বোধ করে। ঘরকুনো হয়ে পড়ে, লোকের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। এবং যেটা সবচেয়ে ক্ষতিকর, কিছু ক্ষেত্রে বাচ্চাটা অসামাজিক হয়ে পড়ে। ফলে এই প্রভাব দু’ভাবে পড়তে পারে, প্রথমত তার পড়াশোনার জায়গায়। সে স্কুলে খারাপ রেজাল্ট করতে শুরু করবে। ক্লাসে পড়া বলতে পারবে না, খারাপ বা অমনোযোগী ছাত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত তার সামাজিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই যে সামাজিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এটা কিন্তু এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। একাকীত্ব থেকে অনেক ধরনের মানসিক ম্যালফাংশন হতে পারে। মন বাইরের কিছুই সহজে গ্রহণ করতে পারবে না। সব কিছুকেই বাঁকা চোখে দেখার প্রবণতা দেখা দেবে। বিশ্বাস এবং সততাও এই ক্ষেত্রে টলে যাবে। এছাড়াও যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা হল ধৈর্য। ছোটখাট কারণেই তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। বড় হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এই মনের ভাবটা কাজ করে। খিটখিটে স্বভাব, সামান্য বিষয়ে রেগে যাওয়া ইত্যাদি শুরু হয়। এগুলো সবই অল্প অল্প ব্যবহারগত ত্রুটি।
এরপর বাচ্চাটা যখন আর একটু বড় হয়ে যায়, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছয় তখন তার মনে একটা পলায়নী মনোবৃত্তির সৃষ্টি হয়। সে কখনও সাধারণ জীবনযাত্রা থেকে, কখনও জটিল কোনও বিষয় থেকে পালিয়ে বেড়াতে চায়। এর ফলে জীবন যখন কঠিন হয়ে ওঠে, তখন তার দমবন্ধ লাগে। সে জীবনকে ফেস করতে চায় না। তার থেকে পালিয়ে যেতে চায়। কোনও সমস্যার মুখোমুখি হয়ে মোকাবিলা করতে চায় না। এবং এই যে পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা এর থেকে অনেক সময়ই বয়ঃসন্ধির ছেলে বা মেয়েটি নানাধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। অন্য কোনও আকর্ষণেও সে জড়িয়ে পড়ে। জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার হাতছানি তাকে ঘিরে ধরে চারদিক থেকে। অনেক সময় এই হাতছানির কারণেই অসৎ সঙ্গেও পড়ে যায় বয়ঃসন্ধির ছেলে বা মেয়েটি। আসলে নির্ভরতা বা বিশ্বাস একেবারে মূলে গিয়ে আঘাত খেলে বাচ্চার মনে তার গুরুতর প্রভাব পড়ে। যে কোনও আবেগই তখন তার কাছে বিশালাকার ধারণ করে সেই থেকে মনের মধ্যে একটা কুপ্রভাব দেখা দেয়।
এরপর আসে একদম শেষ ধাপ, অর্থাৎ স্থায়িত্বে অভাব। সম্পর্ক গড়াই হয় ভাঙার জন্য— এমন একটা মনোভাব শিশু মনে অবচেতনে ধরা পড়ে এবং প্রগাঢ় রেখাপাত করে। সেই ক্ষত থেকেই পরবর্তীতে তার নিজের জীবনে কোনও স্থায়ী সম্পর্ক তৈরিই হয় না। সচেতন বা অবচেতন মনে সে বারবারই ভাবতে থাকে কাউকে বিশ্বাস করা উচিত নয়, কারও উপর নির্ভর করা যাবে না, নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মেলে ধরা যাবে না কারও কাছেই। এই যে নেতিবাচক মনোভাব এগুলোর কারণেই সম্পর্কে স্থায়িত্ব ব্যাহত হয়।
এবার প্রসঙ্গ থেকে সামান্য সরে অন্য একটা ক্ষেত্র বিচার করা যাক। ধরা যাক বাবা বা মায়ের জীবনে যে তৃতীয় ব্যক্তিটি এল সে বাচ্চাটির প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়ে পড়ল। বাচ্চাটির জীবনে তার একটা স্থায়ী প্রভাব পড়ল। সে বাচ্চাটিকে নিজের মতো করে ভালোবাসল, তাকে নির্ভরতা দিল, ভরসার জায়গা তৈরি করল। তখন কী হবে? তখন কিন্তু বাচ্চার মন একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলবে। বাবা বা মায়ের অভাবে মনখারাপ হলেও পাশাপাশি একটা নির্ভরতার জায়গা পেয়ে সে খানিকটা খুশি হবে। মনে রাখতে হবে, মস্তিষ্ক কখনওই অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না। অনিশ্চয়তাতে তার ঘোর আপত্তি। যে কোনও বিষয়েই যদি অনিশ্চয়তা থাকে তাহলে সে অস্থির হয়ে পড়ে। নিশ্চয়তার উপায় খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে কোনওভাবে যদি সেই নিশ্চয়তার সন্ধান তাকে দেওয়া যায় তাহলে সে প্রসন্ন হয়ে ওঠে। যে স্থিরতার জন্য সে ব্যাকুল হয়েছিল সেটা যদি কোনও তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমেও আসে তাহলেও তা কাম্য। কারণ এই স্থৈর্য তার মনকে নোঙর ফেলতে সাহায্য করবে।
বাবা বা মা কারও ক্ষেত্রেই তৃতীয় ব্যক্তির আসাটা বাচ্চার মনে অভিপ্রেত নয়। কিন্তু যদি কেউ আসে তাহলে সে বাচ্চাটাকে কেমনভাবে দেখছে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায় বাবা বা মা যে ভরসা বাচ্চাকে দিতে পারে না, সৎ বাবা বা সৎ মা সেটা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে বাচ্চার মন এই নতুন লোকটির মধ্যেই নিজের নির্ভরতা, আশ্রয়, স্থিরতা, নিশ্চিন্তি ইত্যাদি খুঁজে নেবে। এই যে বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গা, এটার স্থৈর্য বাচ্চার স্বাভাবিক বাড়বৃদ্ধির জন্য খুবই জরুরি। কারণ এই ধরনের অস্থিরতা থাকলে মনে মনে একটা রাগ জন্ম নেয়। মন অবচেতনেই বাবা অথবা মা কারও একজনের প্রতি সমব্যথী হয়ে ওঠে। তার পক্ষ নিতে শুরু করে। অন্যজন তখন বিপক্ষ, শত্রু বা খারাপ লোক হিসেবে মনে স্থান করে নেয়। এবং এর ফলে অপরিণত মন এই বিপক্ষের প্রতি বিরূপ হয়ে ওঠে ও খুবই হঠকারি সিদ্ধান্তও নিয়ে বসে অনেক সময়। হয়তো তার ফলে বাচ্চাটার নিজেরই সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হয়ে যায়, অথচ তার অপরিণত মন সেটা বুঝতে পারে না।
এইধরনের ছোটখাট গণ্ডগোল হতে থাকে। ফলে বাবা মাকে খুব সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। তাঁরা যদি একে অপরের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেন, তাঁদের সম্পর্কে যদি তৃতীয় কোনও ব্যক্তি আসে তাহলেও বাচ্চার প্রতি তাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তার মন থেকে যেন কোনওভাবেই বাবা অথবা মা কারও প্রতিই ভরসা বা নির্ভরতা কিছুই না কমে সেদিকে বাবা মাকেই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে কোনও শিশুকে এই পৃথিবীতে আনা একটা বড় পদক্ষেপ। এবং সেই পদক্ষেপ নিলে দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ ও পালন করতে হবে। আপনাদের কারণে বাচ্চার মন যেন কোনওভাবে অস্থির না হয়ে পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে বাবা মাকেই। সম্পর্কের ভাঙাগড়ার মাঝে স্বার্থপর হয়ে বাচ্চার প্রতি কোনওরকম অবহেলা করলেই বিপদ। অপরিণত শিশুমন খুব কম জিনিসেই প্রভাবিত হয়ে যায়। আর সেই প্রভাব তার সঙ্গে সারাজীবন থেকে যায়। এই সহজ সত্যটা খুব মন দিয়ে বুঝে সেই অনুযায়ী নিজের আচরণকে সংযত রাখতে হবে বাবা মাকেই।
অনেক সময় বাবা মায়ের আচরণের কারণে, ভাঙা পরিবারের কারণে, বাবা মায়ের মধ্যে সারাক্ষণ ঝগড়ার কারণে বাচ্চার মধ্যে একটা আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এই প্রভাব থেকে তাকে বের করে আনতে পারে বাবা মা বা বাড়ির অন্যান্যরা।
অনেক সময় বাড়ির গুরুজনস্থানীয় অন্যরাও শিশুমনে এই প্রভাবগুলো কাটাতে সাহায্য করে। কোনও পরিবার যদি এমন হয় যেখানে মায়ের পাশাপাশি ঠাকুরমা, কাকিমা বা পিসির প্রভাবও সমানভাবে শিশুর মনে পড়ছে, তাহলে হয়তো বাবা মায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন খানিকটা হলেও শিশুকে কম প্রভাবিত করে। কিন্তু সেই সংখ্যা নেহাত কম। তাই সচেতন হয়ে নিজেদের সম্পর্কগুলো সঠিক মাত্রায় বজায় রাখার দায়িত্ব কিন্তু মা-বাবার।