


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা। অধিবেশন চলাকালীন বিষয়টি উত্থাপন করেন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তাঁর আবেদনের পরই বিধানসভায় এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অধিবেশনের শুরুতেই কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজও হুমায়ুনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, হুমায়ুন কবীরের দুটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, দেশে সংবিধান ও আইনই সর্বোচ্চ, কোনও ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নন। একইসঙ্গে হুমায়ুন কবীরকে ভবিষ্যতে এ ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকারও সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুরে এক জনসভায় হুমায়ুন কবীর দাবি করেছিলেন, মুর্শিদাবাদে কিছু বিজেপি নেতা পরাজিত হয়েও অযথা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে একজোট করার কথা বলেন এবং এমন মন্তব্য করেন, যা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে তাতেও তিনি ভীত নন বলেও মন্তব্য করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, এরপর শক্তিপুরের আরেকটি সভাতেও হুমায়ুন কবীর স্থানীয় এক পুলিশ আধিকারিককে লক্ষ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ভোটের আগে তাঁর ভাইপোকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, হাজার হাজার মানুষ নিয়ে থানায় গিয়ে ওই আধিকারিককে বের করে আনার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
হুমায়ুনের এই ধারাবাহিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই আজ বিধানসভায় কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে যাই ঘটে থাকুক, এখন আইনের শাসনই কার্যকর হবে এবং আইন ভঙ্গের অভিযোগে কোনও ব্যক্তিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শুভেন্দু অধিকারী জানান, 'এই দুটো ঘটনার পর আমার মনে হয়েছে এনাফ ইজ এনাফ। এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর সময় এসেছে। মনে রাখবেন, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে সেসময় যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। এখন এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। দুটো কেস আমরা রুজু করেছি। বিএনএস এর সব মামলা দিয়েছি। পুলিশ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে, আমি এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি। দেশে আইন শেষ কথা বলে।