


সংবাদদাতা, তপন: কেমিক্যাল মেশানো রং নয়, পরিবেশবান্ধব ভেষজ আবির তৈরি করে তাক লাগাল তপনের চক বলিরাম জুনিয়র হাইস্কুলের পড়ুয়ারা। দোল উৎসবকে সামনে রেখে স্কুলের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা রংবেরঙের ভেষজ আবির তৈরি করেছে। এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের গঙ্গারামপুর কেন্দ্র এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পড়ুয়ারা নিজেরাই আশপাশ থেকে বিভিন্ন ফুল, ফল, পাতা ও উদ্ভিদের অংশ সংগ্রহ করে আবির তৈরির কাজ করে চলেছে। বাজারচলতি কেমিক্যাল যুক্ত আবির ব্যবহারের ফলে ত্বকের নানা সমস্যা যেমন চুলকানি, অ্যালার্জি ও চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে। সেদিক থেকে সম্পূর্ণ ভেষজ আবির একদিকে যেমন মানুষের শরীরের জন্য নিরাপদ, তেমনি পরিবেশের উপর এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।
ভেষজ আবির তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিট, গাজর, পালং শাক, গাঁদা ফুল, পলাশ ফুল, নীলকণ্ঠ ফুল, কাঁচা হলুদ সহ নানা ফুল, ফল ও গাছের অংশ। নীলকণ্ঠ ফুল থেকে তৈরি হচ্ছে নীল রং, পালং শাক থেকে সবুজ, বিটরুট থেকে লাল, গাঁদা ও কাঁচা হলুদ থেকে উজ্জ্বল হলুদ রং। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়ায় এই আবির শিশু থেকে বয়স্ক-সবার জন্যই নিরাপদ বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। একদিনেই প্রায় ১০ কেজির মতো ভেষজ আবির তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী নন্দিনী দাস জানায়, আমরা গাছের পাতা, ফুল ও অন্য অংশ দিয়ে আবির তৈরি করেছি। কেমিক্যাল ছাড়া আবির খেলতে পারলে শরীরও ভালো থাকবে, পরিবেশও নষ্ট হবে না। দোল উৎসবে সবাই যদি এই আবির ব্যবহার করে, তাহলে প্রকৃতির উপকার হবে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অমিত ঘোষ বলেন, পড়ুয়াদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা শুধু আবির তৈরি শেখেনি, পরিবেশ রক্ষার বার্তাও দিয়েছে। এবার কাগজের ঠোঙায় ভেষজ আবির প্যাকেটজাত করে একটি স্টল দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও স্কুলে স্কুলে এই প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সহযোগিতায় এবছর এক কুইন্টালেরও বেশি ভেষজ আবির তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগ ঘিরে খুশি পরিবেশপ্রেমীরাও। তাঁদের মতে, ছোটবেলা থেকেই যদি পড়ুয়াদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে সমাজ আরো সবুজ ও সুস্থ হয়ে উঠবে। তৈরি হচ্ছে ভেষজ আবির।