


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মারাদোনা থেকে মেসি। ফুটবলপ্রেমী লক্ষ লক্ষ বাঙালির আবেগ হল ‘নীল-সাদা’ জার্সি। আবেগের নিরিখেই দুর্গাপুজোর পর বাঙালির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব হল কলকাতা বইমেলা। এবার মেলায় বই ও ফুটবলের মেলবন্ধন ঘটাতে চলেছে গিল্ড। কারণ, ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় এই প্রথমবার ফোকাল থিম কান্ট্রি হচ্ছে আর্জেন্তিনা। ২২ জানুয়ারি সল্টলেক বইমেলা প্রাঙ্গণে উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলা চলবে তিন ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যে ২৩ ও ২৬ জানুয়ারি ছুটি। এছাড়াও দু’টি শনিবার এবং রবিবার পড়েছে। গতবার বাংলাদেশ হাজির ছিল না। এবারও বাংলাদেশ অংশ নেবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
গতবার বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি ছিল জার্মানি। জার্মানিও প্রথমবার থিম কান্ট্রি হয়েছিল। ফুটবলের অন্যতম দেশ জার্মানির পর এবার বইমেলায় থিম প্যাভিলিয়নে দেখা যাবে আর্জেন্তিনাকে। বইমেলা উপলক্ষ্যে সোমবার পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে ফোকাল থিম কান্ট্রির নাম ঘোষণা করে গিল্ড। অফিসিয়াল লোগো প্রকাশ করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতে অবস্থিত আর্জেন্তিনা দূতাবাসের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রধান আন্দ্রেজ সেবাস্টিয়ান রোজাস, দূতাবাসের কনস্যুলার সেকশনের বিভাগীয় প্রধান আনন্দি কুয়েইপো রিয়াভিটজ, পাবলিসার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে, সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, যুগ্ম সম্পাদক শুভঙ্কর দে সহ বিশিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সেবাস্টিয়ান বলেন, ‘ফোকাল থিম কান্ট্রি হতে পেরে আমরা খুবই খুশি।’ কুয়েইপো বলেন, ‘থিম প্যাভিলিয়নে চমক থাকবে। আমাদের কিছু সাহিত্য বাংলায় অনুবাদ করার চেষ্টা চলছে।’
গতবার ১ হাজার ২০০ আবেদন পড়লেও স্টল পেয়েছিল ১ হাজার ৫০ জন। এবার আবেদন সংখ্যা বাড়লেও প্রাঙ্গণে বাড়তি জায়গা না থাকায় স্টল বাড়ছে না। তবে হাওড়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত সরাসরি মেট্রোজুড়ে যাওয়ায় বইপ্রেমীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। ভিড়ও বাড়বে। গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুবাবু বলেন, ‘গতবার বইমেলায় ২৭ লক্ষ বইপ্রেমী মানুষ এসেছিলেন। ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। আমরা আশা করছি, এবার দু’টি সংখ্যাই আরও বাড়বে’। গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক শুভঙ্কর দে বলেন, ‘২০২৭ সালে কলকাতা বইমেলার ৫০ বছর। তাই প্রাক সুর্বণজয়ন্তী বর্ষ। বইমেলার আবেগের সঙ্গে পাঁচ দশকের ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। আমরা ’২৬ থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করছি।’ ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে এবার নতুন বিষয় থাকছে। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯৬, যে সকল আলোকচিত্রী প্রথম ২০ বছর বইমেলার দুর্লভ ছবি তুলেছেন, তাঁদের নির্বাচিত ছবি প্রদর্শিত হবে। পুরস্কার দেওয়া হবে ১০ জনকে। ১০ ডিসেম্বর আবেদনের শেষ দিন। নির্বাচিত ছবি সুবর্ণজয়ন্তীর স্মরণিকায় প্রকাশ হবে।’