


সোহম কর ও অলকাভ নিয়োগী, কলকাতা: কলকাতা বইমেলা ৪৯ রানে ব্যাট করছে। হাফ সেঞ্চুরি করতে আবার মাঠে নামবে আগামী বছর। মঙ্গলবার মেলার শেষ দিন। গিল্ড হাউজের সামনে সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মঞ্চ। সেখানে দুপুর থেকে ভিড়। আর দিনভর রোদ পিঠে মেখে ভিড় পায়ে হেঁটে ঘুরল এ স্টল থেকে ও স্টল। শেষ মুহূর্তের লাগামছেঁড়া কেনাকাটায় ব্যস্ত রইল অধিকাংশ পাঠক। রাত ন’টায় সমাপ্তি অনুষ্ঠান। বিকেল থেকে চলল তার অপেক্ষা।
অপেক্ষার অবসান। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। মঞ্চে বসে বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে ও সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘গতবছরের তুলনায় ভিড় ও বই বিক্রি ১৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গতবার এসেছিলেন ২৭ লক্ষ। এবার ৩২ লক্ষ মানুষ মেলায় এসেছেন। গতবছর ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবছর সে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬ কোটি।’
অন্যদিকে মঙ্গলবার দিনভর যে ভিড় স্টলে স্টলে দৌড়চ্ছিল, সে ভিড় ভূত-পেত্নির বই দেখলেই থমকে দাঁড়িয়েছে। এবছর নাকি অপদেবতাদের বই-ই ট্রেন্ড লিস্টের প্রথমে। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া, চীনের স্টল খোলেনি। তা জন্য একাংশ হতাশ। প্রায় সব স্টলে পাঠকদের অনুরোধ, ‘শেষ দিনে একটু কম দেবেন না?’ কোনও প্রকাশক গম্ভীর হয়ে বলেছেন, ‘না’। কেউ ক্যাশিয়ারের দিকে তাকিয়ে বলেছেন, ‘একেবারে রাউন্ড ফিগার করে দে।’ কোনও প্রকাশক ‘আসুন আসুন’ বলে নিয়ে গিয়েছেন নিজের স্টলে। কেউ কেউ বলেছেন, ‘বিক্রি ভালোই হয়েছে।’ জনাকয়েক গলায় আক্ষেপ নিয়ে বললেন, ‘তন্ত্র, ভূত আর কমিক্স, এগুলিই হিট। সিরিয়াস বিষয়ের পাঠক কই?’ চায়ের কাপে তুফান তোলা এসব আলোচনা একটানা চলল লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের আশপাশে। মেলার বাইরেও চলল তর্ক।
সাসপেন্স রইল ৫০ বছরের বইমেলা কেমন হবে তা ঘিরে। নিশ্চয়ই অন্যরকম কিছু হবে। এই অন্যরকম যে কীরকম হতে চলেছে তা এখনই জানার কথা নয় কারও। ‘বইতীর্থ’ হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন। তা নিয়েই আগ্রহ সবার। তবে সব কিছুর মধ্যেই শেষ দিনের বিষন্নতা এল ফিরে ফিরে। বইয়ের স্টলের ফাঁকা হতে থাকা তাক, প্রকাশকদের শেষ মুহূর্তের হিসেবনিকেশ, টুকরো টুকরো মনখারাপের ছবির মধ্যে ইতি ঘোষণা হল এবছরের বইমেলার। বাজল শেষের ঘণ্টা। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে পড়লেন। করতালিতে ভরালেন মেলামাঠ। তারপর বাঙালির চেনা শব্দ, ‘আসছে বছর আবার হবে।’ সে যে বইমেলার সুবর্ণ জয়ন্তী!