


বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: বরানগরের হাইভোল্টেজ ভোটযুদ্ধে কোনো দল কাউকে এক ইঞ্চিও জায়গা ছাড়তে নারাজ। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। বিবদমান প্রার্থীদের আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ নিয়ে চায়ের কাপে তুফান উঠছে। এই আবহে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি নাম—সজল ঘোষ! এবারও এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী সজল ঘোষ। তবে লড়াইয়ে আছেন আরও দু’জন সজল ঘোষ! উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বরানগরের ভোটযুদ্ধে এহেন সজলবাবুদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে! গত উপনির্বাচনে ছিলেন দু’জন সজল ঘোষ। এবার বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে মোট তিনজন সজল ঘোষ লড়ছেন এখানে। যা নিয়ে রীতিমতো হাসি-মশকরাও চলছে বরানগরের অলিগলিতে। যদিও বিজেপির দাবি, তৃণমূল মানুষকে বিভ্রান্ত করতে একই নামের লোক ধরে এনে ‘ডামি ক্যান্ডিডেট’ করেছে। তাদের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তাঁদের পালটা দাবি, এক সজলে হচ্ছে না দেখে ওরাই একাধিক সজল আমদানি করেছে!
ভোট ঘোষণা হতে না হতেই বরানগর কার্যত ভোট উত্তাপের গনগনে আঁচে জ্বলছে। যুযুধান শাসক ও বিরোধী পক্ষের সম্মুখসমর, কটূক্তি, ডিজিটাল লড়াই শহরতলির অন্যান্য কেন্দ্রকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে পদযাত্রা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের হয়ে প্রচারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সহ অনেক নেতা ঘুরে গিয়েছেন। সিপিএম প্রার্থী সায়নদীপের হয়ে পদযাত্রা করেছেন বর্ষীয়ান বাম নেতা বিমান বসু, যুব নেতা শতরূপ ঘোষ। এর মধ্যে সজল ঘোষ নামে দুই ব্যক্তি নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে তা গৃহীতও হয়েছে।
২০২৪ সালের উপনির্বাচনে বরানগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় আট হাজার ভোটে পরাজিত হন। সেবারও নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়েছিলেন বরানগরের ৪১/৯, প্রাণকৃষ্ণ সাহা লেনের বাসিন্দা সজল কুমার ঘোষ। তিনি সেবার পেয়েছিলেন প্রায় ৪২৮ ভোট। সেই সজলবাবু আবারও ভোটে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়াও বরানগরের ৪৭, সুভাষপল্লির বাসিন্দা সজল ঘোষ এবার প্রার্থী হয়েছেন। তবে আশ্চর্যের হলেও সত্যি, ভোটের আগে প্রার্থীদের নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না। সবসময় ফোন ব্যস্ত থাকে। অথচ, এই দুই প্রার্থীর মধ্যে সজলকুমার ঘোষের প্রথমে ফোন সুইচড অফ ছিল। পরে রিং হলেও ফোন ধরেননি। অপর সজল ঘোষের মোবাইলে কেবল বেজেই গিয়েছে।
বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেন, ‘এসব তৃণমূলের খেলা। গত ভোটে একজন সজল ঘোষকে ধরে এনে প্রার্থী করেছিল। এবার হার নিশ্চিত বুঝে আরও এক সজল ঘোষকে হাজির করেছে। কিন্তু মানুষ সচেতন। যেকোনো জিনিস নেওয়ার আগে যেমন ছবি ও সই দেখে নেয়, এক্ষেত্রেও প্রতীক, নম্বর ও প্রার্থীর ছবি দেখে ভোট দেবেন।’ তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমিও শুনেছি বিষয়টি। বরানগর আমাদের শক্ত ঘাঁটি। আমার ধারণা, বিজেপি প্রার্থী একা লড়াই করে ক্লান্ত। তাই আরও দুই সজল ঘোষকে ধরে এনেছেন। এসব করে কোনো লাভ হবে না।’
প্রসঙ্গত, বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু। সেখানেও নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়ছেন জনৈক সুজিত বসু এবং সুজিত পাল। তা নিয়েও চর্চা জমে উঠেছে।