


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করে মঙ্গলবার রাতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এলেন পানিহাটি পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান মলয় রায়। চেতলার দপ্তরে বৈঠকের পর দলের নির্দেশে ইস্তফাপত্র জমা দিলেও, ‘টেকনিক্যালি’ তা গ্রহণ করার এক্তিয়ার নেই ফিরহাদ সাহেবের। সূত্রের খবর, আজ, বুধবার পুরসভার বোর্ড অব কাউন্সিলার’কে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন মলয়বাবু। তারপর সেই সেই ইস্তফাপত্র পাঠানো হবে বারাকপুরের মহকুমা শাসকের কাছে। প্রসঙ্গত, পানিহাটির অমররাবতীর মাঠ নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কের মাঝে মলয়বাবুকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছিলেন পুর-নগরোন্নয়নমন্ত্রী। তবে কী কারণে তাঁকে সরতে হবে, দলের তরফে তার ব্যাখ্যা না মেলায় সোমবার পর্যন্ত পদত্যাগ করতে রাজি হননি পানিহাটির চেয়ারম্যান। বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের হস্তক্ষেপ করতে হয় শীর্ষ নেতৃত্বকে। অবশেষে গত চার-পাঁচ দিনের টানাপোড়েন শেষে পদত্যাগ করলেন মলয় রায়। তৃণমূল সূত্রের খবর, দু’একদিনের মধ্যে পানিহাটির নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হবে। সূত্রের খবর, চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ (পূর্ত) সোমনাথ দত্ত।
এই পর্যায়ে পানিহাটির তৃণমূল রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছিল। মলয়বাবু পদত্যাগ করতে অস্বীকার করার পর্বে একসময়ের ‘বিদ্রোহী’ সহকর্মী কাউন্সিলাররাই তাঁর ‘সহায়ক’ হয়ে উঠেছিলেন। গত বছর চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে চিঠি দেওয়া কাউন্সিলারদের একটা অংশ চেয়ারম্যানের হয়ে ব্যাট ধরেছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মলয় রায়কে পদত্যাগ করতেই হবে, এদিনও এই কড়া বার্তাষ দিয়েছিলেন পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। অবশেষে চাপের মুখে পদ ছেড়েছেন মলয়বাবু। পুরসভা সূত্রে খবর, পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষের জেরে শাসক দল তৃণমূলের ৩৩জন কাউন্সিলার ২০২৪ সালে চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে চিঠি দিয়েছিলেন। বোর্ড মিটিং বয়কট করেছিলেন কাউন্সিলাররা। সেই কাউন্সিলারদের একটা বড় অংশ তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অনড় থাকার রসদ পেয়েছিলেন তবে সরতে হবে, এই সিদ্ধান্তে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত সরে আসতে হল মলয়বাবুকে। ফিরহাদ সাহেবের সঙ্গে বৈঠক শেষে মলয়বাবু বলেন, ‘পদত্যাগপত্র মন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছি। আমাদের দলে এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। সুপ্রিমো পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলেছিলেন, নির্দেশ পালন করেছি। ফিরহাদ সাহেব বলেন, সামনে বিধানসভা ভোট। দল মনে করছে, তাঁকে অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে, তাই এই সিদ্ধান্ত। দুর্নীতি বা অমরাবতীর মাঠ বিষয় নয়।