


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠের মেগা ইভেন্ট কৌশিকী উৎসবকে ঘিরে ফ্লেক্সের লড়াইয়ে নামল তৃণমূল ও বিজেপি। আগত পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তার দু’পাশ বরাবর ফ্লেক্সে ছেয়ে দিয়েছে যুযুধান দু’পক্ষই। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটকে মাথায় রেখে রাজ্যের অন্যতম তীর্থভূমিকে জনসংযোগের মাধ্যম করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে জনস্রোত তারাপীঠমুখী। দুরদূরান্তের লক্ষ লক্ষ ভক্ত আসছেন। তাঁদের স্বাগত জানাতে টিআরডিএর তরফে প্রায় সাত কিমি রাস্তাজুড়ে লাগানো হয়েছে অসংখ্য ফ্লেক্স। তাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। রয়েছে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান যথাক্রমে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছবিও। কোথাও আবার আইএনটিটিইউসির ফ্লেক্সে রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের ছবি। সকলেই হাত জোড় করে আগত তীর্থযাত্রীদের স্বাগত জানাচ্ছেন। টেক্কা দিতে টিআরডিএ’র ফ্লেক্সের ঠিক পাশেই লাগানো হয়েছে বিজেপির যুব মোর্চার তরফে ফ্লেক্স। দেখে মনে হবে, কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। যুব মোর্চার ফ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার ছবি রয়েছে। জেলা সভাপতি হাত জোড় করে আগত ভক্তদের স্বাগত জানাচ্ছেন। তারাপীঠের পাশাপাশি, রামপুরহাট জংশন চত্বরেও কৌশিকী তিথি উপলক্ষ্যে সহায়তা কেন্দ্র খুলেছে বিজেপি ও তৃণমূল দু’পক্ষই। সেখানে নিজেদের সমর্থনে মাইকে প্রচার চলছে। কানপাতা দায় হয়ে উঠছে যাত্রীদের।
সুকুমারবাবু বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে ফ্লেক্স লাগাই। বিজেপি এখন দেখাদেখি এসব করছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত আসছেন। তাঁদের প্রতি দায় দায়িত্ব নেই ওদের। অথচ, আমরা পুণ্যার্থীদের সহয়তায় ময়দানে রয়েছি। ওরা ফ্লেক্স লাগিয়ে সস্তায় প্রচার পেতে চাইছে। কিন্তু, মানুষ জানে কারা তাঁদের পাশে থাকে।’ বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সভাপতি অনুপ মাল বলেন, ‘বিজেপি সর্বভারতীয় পার্টি। এরা আঞ্চলিক দল তৃণমূলকে কোনওভাবেই অনুসরণ করে না। বহু আগে আমরা যখন কৌশিকী তিথিতে ক্যাম্প করেছিলাম, তখন তৃণমূল কোথাও ছিল না। আমরা কাউকে দেখে রাজনীতি করি না। যা করি নিষ্ঠার সঙ্গে। ফ্লেক্স লাগিয়ে সস্তার প্রচার পেতে চাইছি না। তাই তো মানুষ আমাদের ক্যাম্পে ভিড় জমাচ্ছেন।’
বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে যাবে। তার আগে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে বাংলায়। তার উপর ভিনরাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের উপর অত্যাচার নিয়েও সুর চড়িয়েছে রাজ্যের শাসকদল। দু’টি ক্ষেত্রেই বিজেপি খানিক ব্যাকফুটে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। এই অবস্থায় গেরুয়া শিবির এখন বেশি করে জনসংযোগের উপর জোর দিয়ে জনমত অনুকূলে আনার চেষ্টায় মরিয়া। আর সেই চেষ্টার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ধর্মীয় উৎসবগুলিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন্দ্রের শাসকদল। যদিও শাসকদলের দাবি, ওরা যতই করুক ছাব্বিশের নির্বাচনেও হালে পানি পাবে না। বিজেপির মুখোশ খুলে গিয়েছে। বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতির সঙ্গে ওদের আদর্শ খাপ খায় না।