


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দলের শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনও আপস নয়। বিধায়ক হোন বা বড় কোনও পদাধিকারী—এক্ষেত্রে কাউকে রেয়াত করা হবে না। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্দেশ স্পষ্টভাবে আরও একবার জানিয়ে দিল তৃণমূল। কসবার দক্ষিণ কলকাতা ল’ কলেজের ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে শো-কজ করেছে তৃণমূল। একই ঘটনা নিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছেন, তাতেও দল অনুমোদন দেয়নি।
কসবার কলেজে গণধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত করছে পুলিস। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অবস্থায় তৃণমূলের কোনও নেতা যেন অপ্রীতিকর বা অস্বস্তিকর মন্তব্য করে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে না দেন, সেই বার্তা স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল ভবনের তরফে। কামারহাটির বিধায়ক বলেছিলেন, ‘মেয়েটি (নির্যাতিতা) সেখানে একা না গেলে এই ঘটনা ঘটত না।’ এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই তাঁকে শো-কজ করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। চিঠিতে সুব্রতবাবু উল্লেখ করেছেন, মদন মিত্রের অযাচিত, অপ্রয়োজনীয় এবং অসংবেদনশীল মন্তব্য দলের ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ কী, তিন দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের অন্দরের খবর, স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মদন মিত্রের সুদীর্ঘ সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কসবার ঘটনা নিয়ে মদন যে মন্তব্য করেছেন, তা ভালোভাবে নেননি তৃণমূল নেত্রী। এই প্রেক্ষিতেই মদনকে চিঠি ধরানো হয়েছে। এ বিষয়ে মদন বলেছেন, ‘দলের ব্যাপার দলকেই জানাব। বাইরে কিছু বলব না।’ এদিকে, কসবার ঘটনা নিয়ে কল্যাণ বলেছিলেন, সহপাঠিনীকে যদি সহপাঠী ধর্ষণ করে, নিরাপত্তা কে দেবে! তারপরই তৃণমূলের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে দল কোনওভাবেই একমত নয়। এই ধরনের বক্তব্য দলের অবস্থান প্রতিফলিত করে না।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজনীতির ময়দানে পোড় খাওয়া দুই বর্ষীয়ান নেতাকে এই বার্তা দিয়ে তৃণমূল বুঝিয়ে দিয়েছে, দলকে বিড়ম্বনায় ফেললে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এই আবহে কল্যাণকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি আরেক তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর মন্তব্য আসলে নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রকাশ বলে কল্যাণকে আক্রমণ করেন মহুয়া। পাল্টা দেন কল্যাণও। তাঁদের এই বাগযুদ্ধও দলের নজরে এসেছে বলে খবর। এই অবস্থায় আগামী দিনে বড় কোনও পদক্ষেপ হতে পারে বলে অনুমান তৃণমূলের একাংশের।