


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ‘ধর্মের ষাঁড়’ সামলাতে পৃথক আবাস বানানোর পরিকল্পনা করেছে হুগলি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। একদিকে নাগরিক নিরাপত্তা অন্যদিকে পশুদের সুরক্ষাকে নজরে রেখে ওই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বাছা হয়েছে এক অদ্ভুত জায়গা। হুগলির তারকেশ্বরে শৈবতীর্থের মধ্যেই এই নতুন আবাস তৈরি করতে চাইছেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্তারা। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, বাবা’র বাহনকে সুরক্ষা দিতে শৈবতীর্থের মহান্তরাও এগিয়ে এসেছেন। সেখান থেকেও একপ্রকার সবুজ সংকেত মিলেছে। জানা গিয়েছে, দু’পক্ষের মধ্যে মউ স্বাক্ষর ও পরিকাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করে কাজে নামাটাই এখন যা বাকি। তারপরেই গঙ্গাপাড়ের কোনও জেলায় প্রথমবারের জন্য গড়ে উঠবে বৃদ্ধ ষাঁড়দের ‘অভয়ারণ্য’।
নতুন এই পরিকল্পনাকে ঘিরে বেজায় উৎসাহিত হুগলি জেলা পরিষদের প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ তথা আইনজীবী নির্মাল্য চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ছেড়ে দেওয়া ওই প্রবীণ ষাঁড়গুলি নাগরিকদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। বাজারে-ঘাটে শিং দিয়ে গুঁতিয়ে জখম করছে অনেককে। রাস্তায় যান চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে তাদের জন্য। ওই অবলা প্রাণীগুলি নিজেরাও কষ্টে থাকে। খিদের জ্বালা, শীতের মরশুমে কষ্ট, ঝড়-জল সইতে হয়। এই সমস্যা থেকেই আমরা ষাঁড়দের জন্য ‘বৃদ্ধবাস’ তৈরির কথা ভেবেছি। শৈবতীর্থের মহান্ত মহারাজ আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। দ্রুত এবিষয়ে আমরা প্রশাসনিক পদক্ষেপ করব। ষাঁড়দের জন্য খাবার ও থাকার সুস্থ পরিকাঠামো গড়া হবে। রাজ্য সরকারের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিকল্পনায় উল্লসিত জেলার পশুপ্রেমীদের যুক্তমঞ্চের কর্তা গৌতম সরকার। তিনি বলেন, অবলা পশুদের নিয়ে মানুষের নৃশংসতার উলটো পথে হেঁটে এক অভাবিত প্রস্তাব সামনে এসেছে। এই পরিকল্পনা পথ কুকুর থেকে আরও অনেক অবলা জীবের সুস্থতার পথ গড়ে দেবে। হুগলির আঞ্চলিক ইতিহাসের চর্চাকার প্রবীণ শ্যামল সিংহ বলেন, এটি একটি বেনজির পরিকল্পনা। এই প্রকল্প রূপায়ণের অপেক্ষায় থাকব। একজন নাগরিক হিসেবে ওই ‘ষাঁড়দের বৃদ্ধাবাস’কে সাধুবাদ জানাতেই হবে।
গৃহপালিত ষাঁড় বৃদ্ধ হলে তার গায়ে ত্রিশূল এঁকে রাস্তার ছেড়ে দেওয়া হয়। সেগুলিকেই মূলত ‘ধর্মের ষাঁড়’ নামে চেনে বাঙালি সমাজ। যদিও সময় আধুনিক হওয়ার পর এই নাম যেমন কিছুটা অপরিচিত হয়ে পড়েছে, তেমনই ত্রিশূল এঁকে দেওয়ার আর তেমন হয় না। তবে উদ্বৃত্ত প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে ষাঁড়কে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার চল বদলায়নি। সেকারণেই সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বৃদ্ধ ষাঁড়গুলি নাগরিক মহলের সঙ্গে কার্যত ‘যুদ্ধ’ করে বিপন্ন অবস্থায় মারাও যায়। এই পরিস্থিতি বদলাতেই ষাঁড়দের জন্য বৃদ্ধাবাস তৈরি করার কথা ভাবা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, যার রূপায়ণ এখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা।