


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আনন্দপুর কাণ্ডে আগুনের উৎসস্থল কোনটা ছিল, কীভাবে ছড়িয়েছে আগুন– প্রভৃতি নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা। তার জন্য ভরসা দমকল, বিদ্যুৎ বিভাগের রিপোর্ট। তাই তাদের থেকে এই সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে নরেন্দ্রপুর থানা। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের সময় যাঁরা পালিয়ে বেরোতে পেরেছিলেন, তাঁরাই এই ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁদের বয়ান তদন্ত প্রক্রিয়াকে সঠিক দিশা দেখাতে পারবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এখনও তাঁরা আতঙ্কিত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হয়তো তাঁদের আরও কিছুদিন লাগবে। তাই এখনই তাঁদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন না পুলিশকর্তারা। এক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি নেওয়া হয়েছে। একবার ওই কর্মীরা একটু ধাতস্ত হয়ে যান, তারপরই প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলবেন তদন্তকারী অফিসাররা।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন তিনজন পুলিশ হেপাজতে আছেন। তাঁদের নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার শীর্ষ আধিকারিকরা। নরেন্দ্রপুর থানাতেও তিনজনকে রাখা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল, কোথায় গাফিলতি ছিল– তা খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। শনিবার আরও চারটি দেহাংশ ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে মাংসের টুকরো, হাড়, ও ছাই রয়েছে। ২৭টি নিখোঁজের ডায়েরি হয়েছিল নরেন্দ্রপুর থানায়। সেই মোতাবেক ২৭টি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, ওই গোডাউনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আর কোনও দেহাংশ নেই। তাই আপাতত আর খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে না বলেই খবর।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে বিজেপির মিছিল হয় নরেন্দ্রপুরে। সেখানে ডিজে বক্স বাজিয়ে নাচানাচির অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তার প্রতিবাদে শনিবার একই এলাকায় পাল্টা মিছিল করে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই মিছিল থেকে সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম, রাজপুর সোনারপুর পুরসভার সিআইসি নজরুল মণ্ডলের নেতৃত্বে বিজেপির আচরণকে ‘অমানবিক’ বলে আক্রমণ করা হয়।