


সংবাদদাতা মেদিনীপুর ও বেলদা: সোমবার সন্ধ্যায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে খড়্গপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খড়্গপুর মহকুমার চারটি ব্লকের ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। প্রশাসন সূত্রের খবর, এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচশোর বেশি বাড়ি। ভেঙে পড়েছে বহু গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। খড়্গপুরের মহকুমা শাসক পাতিল যোগেশ অশোক রাও জানান, প্রাথমিকভাবে যে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব মিলেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ৫৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫১৪টি বাড়ি। যে সব বাড়ির ছাউনি উড়ে গিয়েছে, তাদের ৩৮০টি ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। আরও ২১০টি ত্রিপল দেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় খড়্গপুর গ্রামীণ এলাকা থেকে শুরু হয় মিনি টর্নেডো। সেই ঝড় কেশিয়াড়ি ব্লকের খাজরা, ঘৃতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা হয়ে নারায়ণগড়ের মকরামপুর, গ্রামরাজ, নারমার উপর দিয়ে বয়ে যায়। তা আছড়ে পড়ে সবং ব্লকের দেভোগ, নওগাঁ ও চাউলকুঁড়ি এলাকায়। কেশিয়াড়ির খাজরা এলাকার বাসিন্দা, সুচিত্রা দাস, ঈশ্বর মাণ্ডি বলেন, সন্ধের সময় বাড়িতে বসেছিলাম। হঠাৎ করে কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। সেই সঙ্গে গোঁ গোঁ করে আওয়াজ করে তীব্র গতিতে ঝড় শুরু হয়। আর তারপরেই সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। সেই সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়তে থাকে। শিলাবৃষ্টিতে বাড়ির অ্যাসবেস্টস ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে। জমির ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
নারায়ণগড়ের রাজগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অমর ঘোষ বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় দু›শো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের প্রাথমিকভাবে ত্রিপল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমাদের বেশিরভাগ গ্রামের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলাতে এ বিষয়ে সমস্ত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
সবং এর একাধিক এলাকাতেও এই ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। সবংয়ের দেভোগ, নওগাঁ ও চাউলকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে ১০০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভূঁইয়া। জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্স বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশে মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়। ব্লকের কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে ত্রিপল পাঠানো হয়েছে। এদিনের এই ঝড়ে বাড়িঘর ভাঙার পাশাপাশি বেশকিছু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ও বড় বড় টাওয়ার ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে চারটি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার।
বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার রিজিওনাল ম্যানেজার প্রদীপ সামন্ত বলেন, সবং, নারায়ণগড়, খড়্গপুর গ্রামীণ সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড়শোর বেশি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়েছে। নারায়ণগড় ও বাড়গোকুলপুর সাবস্টেশন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। সংস্থার ৩০টি দল পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন।