


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলার অন্যতম পর্যটনস্থল বেলপাহাড়ী। এখানে অরণ্যের মাঝে দিন ও রাত যেন নিঃশব্দে পার হয়ে যায়। পাহাড়ী উপত্যকাজুড়ে সামান্য চাষাবাদ হয়। শালবনের পাতা, কাঠ, কুরকুট পিঁপড়ে সংগ্ৰহ করাই এখানকার বাসিন্দাদের প্রধান জীবিকা। তবে, বেলপাহাড়ীর মানুষের জীবন ও জীবিকার চেনা ছবি বদলে দিচ্ছে পর্যটনের প্রসার। পথশ্রী প্রকল্পে নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পর্যটক আসার সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটনের হাত ধরে এলাকার মানুষের রোজগার বাড়ছে।
অরণ্য, পাহাড়, জলপ্রপাত ও আদিবাসী সংস্কৃতির টানে পর্যটকরা দূর-দূরান্ত থেকে বেড়াতে আসছেন। দেড় দশক আগে বেলপাহাড়ী এলাকায় মুষ্টিমেয় ভ্রমণবিলাসীদের দেখা যেত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বেলপাহাড়ীর দুর্গম এলাকায় যাওয়ার রাস্তা ছিল না। পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত স্থানে পানীয় জল ও শৌচালয়ের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেলপাহাড়ী জেলার অন্যান্য প্রান্ত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গভীর অরণ্য ও পাহাড়ী এলাকায় তেমন চাষবাস হত না। স্থানীয় মানুষজন কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতেন। এলাকার মানুষের জীবন কাটত দারিদ্র ও অর্ধাহারে। আমলাশোলের পাঁচ লোধা-শবরের অনাহারে মৃত্যুর খবর এলাকার ছবি প্রকাশ্যে এনে দেয়। মাত্র দেড় দশকে সেই ছবি বদলে গিয়েছে। পর্যটনের প্রসারে বাসিন্দাদের রোজগার বাড়ছে। রাজ্য সরকার ২০২০ সালে পথশ্রী প্রকল্পের সূচনা করে। বিনপুর-২ ব্লকে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২০টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬টি, তৃতীয় পর্যায়ে ১২টি নতুন রাস্তা তৈরি হয়। চতুর্থ পর্যায়ের কাজে আরও ২৪টি রাস্তা নির্মাণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। পথশ্রী প্রকল্পে একাধিক নতুন রাস্তা তৈরি হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় সহজেই যাতায়াত করা সম্ভব হয়েছে। পর্যটকরা গাড়ি নিয়ে পর্যটনস্থলে পৌঁছে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যটনস্থলে খাবারের দোকান নিয়ে বসছেন। কেউ আবার পাথর, কাঠের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করছেন।
বেলপাহাড়ীর বারিঘাটি গ্ৰামের বাসিন্দা বুদ্ধেশ্বর মুণ্ডা বলেন, খান্দারানি লেক দেখতে সারাবছর পর্যটকরা আসেন। শীতের মরশুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। এই এলাকায় চাষবাস বেশি হয় না। সবাই দিনমজুরের কাজে বাইরে যায়। প্রশাসন এখানে পানীয় জল, শৌচালয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। গ্ৰামের বাসিন্দারা পর্যটকদের খাবার ও হস্তজাত শিল্প বিক্রি করে রোজগার করছেন। আরও পর্যটক এলে রোজগার বাড়বে। বাইরে দিনমজুরের কাজ করতে যেতে হবে না। অপর বাসিন্দা জগদীশ মুণ্ডা বলেন, ২০১৭ সালে বান্দরবান কলেজ থেকে স্নাতক হই। পর্যটনস্থল পরিষ্কার ও নিরাপত্তা রক্ষার কাজ করে রোজগার করি। পর্যটনের আরও প্রসার হলে কাজের জন্য বাইরে যেতে হবে না। বেলপাহাড়ীর ঘাগড়া গ্ৰামের বাসিন্দা সুখলাল মাণ্ডি বলেন, এখন বহু পর্যটক ঘাগড়া জলপ্রপাত দেখতে আসছেন। শাল চিকেন, ব্যাম্বু বিরিয়ানি, লাল পিঁপড়ের চাটনি বিক্রি করে ভালো রোজগার করছি। গ্ৰামের মানুষ খাবারের দোকান, হস্তশিল্পের জিনিসপত্র বিক্রি করে রোজগার করছে।
বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, পথশ্রী প্রকল্পের হাত ধরে যোগাযোগের উন্নতি হয়েছে। পর্যটনস্থলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের রোজগার বাড়ছে। -নিজস্ব চিত্র