


ভোপাল: বিষাক্ত কফ সিরাপ খেয়েছিল একরত্তি শিশুটি। তার জেরেই বিকল হয়ে যায় দু’টি কিডনিই। ছেলে কুণাল যদুবংশীকে বাঁচাতে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া থেকে নাগপুর পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন বাবা-মা। শারীরিক অবস্থা দেখে প্রায় জবাব দিয়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তবুও হার মানেনি পাঁচ বছরের শিশুটি। জারি ছিল বাঁচার লড়াই। শেষমেশ জয় হল ইচ্ছাশক্তির। ১১৫ দিন পর বাড়ি ফিরল কুণাল। সঙ্গী একরাশ আতঙ্ক আর অদম্য জেদ। তবে জীবন ফিরে পেলেও তার দু’চোখের দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছে। স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাঁটাচলা করতেও সমস্যা হচ্ছে। তবুও আশা হারাচ্ছে না পরিবার। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, ছেলে ঠিক সুস্থ হয়ে উঠবে।
আতঙ্কের আরেক নাম বিষাক্ত কফ সিরাপ। গত অক্টোবর মাসে ‘কোল্ডরিফ’ নামক সিরাপ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে একাধিক শিশু। তাদের মধ্যে ২৪ জনের মৃত্যু হয়। অধিকাংশই ছিন্দওয়াড়ার। কুণালের বাড়ি ছিন্দওয়াড়ার যতচ্ছপুর গ্রামে। গত ২৪ আগস্ট জ্বর নিয়ে কাহিল হয়ে পড়েছিল সে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চিকিৎসক প্রবীণ সোনির কাছে নিয়ে যান উদ্বিগ্ন মা-বাবা। জ্বর কমাতে ওষুধের পাশাপাশি সেই কফ সিরাপ খেতে বলেন ডাক্তার। সেটি খাওয়ার পরেই কুণালের শরীর আরও খারাপ হতে থাকে। পরীক্ষায় জানা যায়, দু’টি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৩০ আগস্ট কুণালকে নাগপুর এইমসে রেফার করা হয়। পরদিনই ছেলেকে সেখানে চলে যান বাবা টিক্কু যদুবংশী। এইমস সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে হয়। দেড় মাস ধরে চলে ডায়ালিসিস। কুণালের কিডনির অবস্থা দেখে প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কার্যত বলেই দিয়েছিলেন, বাঁচার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবে কুণাল দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে গিয়েছে। সেই জেদের কাছেই হার মানল মৃত্যু। -ছবি সমাজমাধ্যম
প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নিলেও সুন্দর পৃথিবীকে আর দেখতে পাচ্ছে না কুণাল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষাক্ত কফ সিরাপের কারণে চোখের তরল শুকিয়ে গিয়েছে। ফলে চলে গিয়েছে দৃষ্টিশক্তি। পাশাপশি স্নায়ুতন্ত্রের উপরেও থাবা বসিয়েছে সিরাপের ‘বিষ’। তাই হাঁটতে অসুবিধা হচ্ছে। তবুও বিশ্বাস হারাচ্ছে না পরিবার। টিক্কু বলেন, ‘সব আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। এখন ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে। বর্তমানে ও কিছু দেখতে পাচ্ছে না। তবে আমাদের বিশ্বাস, আস্তে আস্তে কুণাল সুস্থ হয়ে উঠবে।’