


সিওল: ‘আমরা শীঘ্রই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করব।’ শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতার মধ্যেই বুধবার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এমনই বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্ন উঠল, তাহলে কি ট্রাম্পের ফতোয়া মেনে রুশ তেল কেনা কমিয়ে বা বন্ধ করে দিল ভারত? সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ভারতমুখী রাশিয়ার তৈলবাহী জাহাজ ইউ টার্ন নিয়ে ফিরছে। দিন দুই আগেই রাশিয়ার দুই তেল উৎপাদনকারী সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। এরপরই আমেরিকার রক্তচক্ষু এড়াতে ২১ নভেম্বরের পর থেকেই সরাসরি ওই দুই সংস্থার থেকে ভারতীয় সংস্থাগুলি তেল আমদানি কমাতে চলেছে বলে খবর। এবার জানা গেল রাশিয়ার তৈলবাহী জাহাজও ফিরে যাচ্ছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেই আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন মোদি। তখনই বাণিজ্য চুক্তির কথা জানিয়েছিলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। তবে তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি দুই দেশ। এরইমধ্যে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সবমিলিয়ে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ভারত শীঘ্রই রুশ তেল কেনার পরিমাণ কমাবে। সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে শুল্কের পরিমাণ ১৬ শতাংশে নামিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছে আমেরিকা। মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের পরই ওই ইঙ্গিত মেলে। এই আবহে ট্রাম্পের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাহলে কি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি শুধু সময়ের অপেক্ষা?
বুধবার সিওলে এশিয়া প্যাসিফিক ইকনমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক) সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে চলেছি। প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুবই ভালো।’ একইসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রূপের প্রশংসাও করেন তিনি। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত সুদর্শন পুরুষ। তবে মনের দিক থেকে খুব কঠিন।’ এরপরেই ফের একবার ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘দু’টো পরমাণু শক্তিধর দেশের লড়াই বেধে গিয়েছিল। তখন ফোন করে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলি, আপনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছেন। তাই আপনার সঙ্গে আমরা বাণিজ্য চুক্তি করতে পারব না। দু’দিন পরেই দুই দেশ ফোনে যুদ্ধ বন্ধের কথা জানায়।’ উল্লেখ্য, বাণিজ্য আলোচনায় শুধু রুশ তেল ক্রয়ই নয়, ভারতের কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার নিয়েও টানাপোড়েন চলছে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। এব্যাপারে বাণিজ্য চুক্তিতে আমেরিকার কিছু শর্ত ভারতকে মানতে হতে পারে বলে খবর। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের দেশ থেকে বেশি পরিমাণে নন-জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ভুট্টা ও সোয়াবিন কিনতে পারে ভারত।