


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিভিন্ন স্টেশনের পাশেই আস্তানা গড়ে বহু পরিবার। খোলা আকাশের নীচেই বছরের বেশিরভাগ সময় তাদের কেটে যায়। সেইসব এলাকার কিশোরীদের টার্গেট করত মানব পাচার চক্রের চাঁইরা। এছাড়া ভবঘুরে পরিবারের যুবতী বা কিশোরীদের উপরও তারা নজর রাখছে। ওই সব এলাকায় তাদের এজেন্টও ছড়িয়ে রয়েছে। রায়নায় নাবালিকাকে বিক্রির ঘটনায় তদন্তে নেমে রাজ্যজুড়েই এই চক্রের সন্ধান পেয়েছে সিবিআই। পাচারকারীরা মহিলাদের এজেন্টের কাজে লাগায়। তারা ঠিকানা না থাকা যুবতীদের সঙ্গে ভাব জমায়। পরে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচারকারীদের হাতে কিশোরীদের তুলে দেয়। এইসমস্ত এলাকার কিশোরীদের পাচার করলে ঝক্কি কম থাকে। মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেও থানায় অভিযোগ পর্যন্ত হয় না। সেকারণেই ওইসমস্ত এলাকায় তারা সক্রিয় বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশিরভাগ সময় কিশোরীদের রাজস্থানে বিক্রি করা হয়। এছাড়া হরিয়ানা এবং মুম্বইয়েও বিক্রি করা হয়। অনেক সময় কিশোরীদের চার-পাঁচবার বিক্রি করা হয়। যৌবন ফুরিয়ে গেলে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করা হয়। রায়নার বিক্রি হওয়া কিশোরীকে তিন-চারবার বিক্রি করা হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর সিবিআই তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, চক্রের হাত অনেক লম্বা। কয়েক মাস আগে গলসির এক নাবালিকাকে পুলিস রাজস্থান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তাকেও মরুরাজ্যে বিক্রি করা হয়েছিল। সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার পরও পাচারকারীদের লোকজন ওই নাবালিকার বাড়িতে পৌঁছে যায়। কেস তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের লোকজনের অভিযোগ। ওই নাবালিকা বলে, রাজস্থানে এরাজ্যের অনেক মেয়ে রয়েছে। কয়েকজনের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। তারাও ফিরে আসতে চায়।
সিবিআই সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মানবপাচারের সিন্ডিকেট মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলায়ও সক্রিয় রয়েছে। তারা স্থানীয়দের এজেন্ট হিসেবে কাজে লাগায়। রায়নার কিশোরীকে পাচারের ঘটনায় বৃহস্পতিবারও বর্ধমানের মালিরবাগান এবং মেহেদিবাগান থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগেও রায়নার কিশোরী পাচারের ঘটনায় আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। তারা শুধু এই ঘটনা নয়, আরও কিশোরী বা নাবালিকাকে তারা পাচার করেছে বলে অভিযোগ। সেসব খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।