


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কা করা হয়েছিল ‘নবান্ন অভিযান’-এ বোধহয় সাংঘাতিক ধুন্ধুমার কাণ্ড হবে। কিন্তু কোথায় কী! শনিবার হাওড়া ব্রিজের দু’প্রান্তে আকাশ ছোঁয়া লৌহ কপাটের ধারে কাছে কোনও আন্দোলনকারীকে দেখা গেল না। শুধু নাকাল হলেন সাধারণ মানুষ। কলকাতা শহর থেকে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছতে গ্রাম-শহরতলির বাসিন্দাদের নাকানিচোবানি খেতে হল। ব্যারিকেডের ছোট ছোট গেট দিয়ে বিশাল সংখ্যক সাধারণ মানুষ লাইন দিয়ে হাওড়া ব্রিজে প্রবেশ করলেন। তারপর হাঁটতে থাকলেন। ফলত, অসুস্থ মানুষদের বিপত্তি বাড়ল। ট্রেন ছুট হলেন অনেকে।
রানি রাসমনি অ্যাভিনিউ থেকে হাওড়াগামী বাস পাওয়া যাচ্ছিল হাতে গোনা। সেই বাস স্ট্র্যান্ড রোড থেকেই ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তাই নিয়েই যাত্রী ও কন্ডাক্টরদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। কিন্তু বাস কন্ডাক্টররা অসহায়। অনেকেই আবার ফেরিঘাটের পথে হাঁটেন। তাঁরা বলছিলেন, দু’বার করে ভাড়া দিতে হচ্ছে আমাদের। আবার স্ট্র্যান্ড রোডে অনেক ভ্যানওয়ালা দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁরা ১০ টাকার বিনিময়ে হাওড়া ব্রিজ পর্যন্ত ছেড়ে দিচ্ছিলেন। হাওড়া ব্রিজে আবার বিশালাকার ব্যারিকেড। অনেকে ট্রেন ধরার তাড়ায় টপকে যাচ্ছিলেন। ব্যারিকেডের মাঝে ছোট গেট দিয়ে ধস্তাধস্তি করেই প্রবেশ করছিলেন অনেকে। তারপর পুলিসের হস্তক্ষেপে লম্বা লাইন করা হয়। সেই লাইন প্রায় ব্রাবোর্ন রোড স্পর্শ করেছিল। একটা সময় ব্যারিকেডের বড় অংশ খুলে দেওয়া হয়। যার ফলে খানিক হলেও স্বস্তি পান সাধারণ মানুষ। হাওড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে অনেকেই মেট্রো ধরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মেট্রোতেও টিকিট কাটতে লম্বা লাইন। অনেক যাত্রীকেই দেখা যায়, বড় বড় লাগেজ নিয়ে হাঁটতে। একই পরিস্থিতি ছিল ফোরশোর রোডের দিকেও। এরই মাঝে দেখা যায় ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে বড়বাজারের দিক থেকে হেঁটে আসছেন রামপুরহাটের বাসিন্দা হাসিম। বলছিলেন, ‘বাবাকে টাটা মেডিক্যালে দেখিয়ে বাড়ি ফিরছি। কিন্তু ট্রেন মিস করে গেলাম। কিছু করার নেই এখন।’
অদিকে, বিকেলের দিকে অভয়া মঞ্চের ডাকে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যার ফলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হাজরা মোড় অবরুদ্ধ থাকে। অফিস ফেরত নিত্যযাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েন। এর পাশাপাশি উত্তর শহরতলিতে সিঁথি, টবিন রোড, রথতলা মোড়, সোদপুর মোড়েও প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক যানজটে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। -নিজস্ব চিত্র