


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: ভোটের আবহে প্রচার চলছে জোরকদমে। তার মধ্যেই উত্তেজনা বরানগরে। তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীর উপস্থিতিতে দুই দলের সমর্থকরা পরস্পরের সঙ্গে বাগযুদ্ধে ও পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। জানা গিয়েছে, শনিবার বরানগর এক নম্বর ওয়ার্ডে ভোটপ্রচারে বেরন তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আলমবাজারে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অন্যদিকে, পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ভোটের প্রচার করছিলেন বরানগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষও। সন্ধ্যায় টবিন রোডে বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে পোস্টার-ব্যানার খুলে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন সজলবাবু। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন সায়ন্তিকা। তৃণমূল-বিজেপির স্লোগানযুদ্ধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রথমে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা বিশ্বজিত্ বর্ধন সহ দু’পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ।
এদিকে, বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাসকে বীজপুর থানা এলাকায় প্রচারের জন্য অনুমতি দিল হাইকোর্ট। ২০১৯ সালে তৃণমূল কর্মী রাজু কুড়মিকে খুনের অভিযোগে তিনবছর সংশোধনাগারে কাটান তিনি। তারপর বীজপুর থানা এলাকায় ঢুকতে পারবেন না এই শর্তে জামিন পান। বিজেপির প্রার্থী হওয়ার পর সুদীপ্তবাবু হাইকোর্টে আবেদন জানান। বীজপুর থানা থেকে রিপোর্ট নিয়ে শুক্রবার তাঁর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় হাইকোর্ট। শনিবার সকালে সুদীপ্ত যান কাঁচরাপাড়ার ডাকাত কালীবাড়ি এবং নীচুবাসায় হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে। জনসংযোগের সময় সিপিএম প্রার্থী দেবাশিস রক্ষিতের (ববি) সঙ্গে দেখা হয় সুদীপ্তর। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। সুদীপ্ত বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছিল। শুক্রবার আদালত আমার আবেদন মঞ্জুর করেছে।’ এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী বিজেপিকে নিজের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে মানতে রাজি নন। সুবোধ বলেন, ‘বীজপুরে এবার ভোট হবে উন্নয়নের নিরিখে।’ হালিশহরে রামপ্রসাদ ভিটেতে কালী মন্দিরে এবং হাজিনগর হনুমান মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি চারটি শীতলা পুজোয় গিয়ে জনসংযোগ সারেন সুবোধ। অন্যদিকে গোলঘর ইদগাহ সহ মামুদপুর, পানপুর কেউটিয়া, কাউগাছি ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় গিয়ে সংখ্যালঘু মানুষদের সঙ্গে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আদিবাসীদের অনুষ্ঠানে সামিল হয়ে জনসংযোগ সারেন জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং এবং বারাকপুরের প্রার্থী কৌস্তুভ বাগচির উপস্থিতিতে এদিন একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে কর্মিসভা হয়। নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও জনসংযোগ সারেন। তৃণাঙ্কুর বলেন, ‘অর্জুন সিং যত মুখ খুলবেন তত আমার ভোট বাড়বে।’ ভোটের আবহে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পানিহাটি ও খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং দেবদীপ পুরোহিত। আগরপাড়ায় আশুতোষ ভবনে তৃণমূলের কর্মিসভা হয়। কামারহাটিতে ইদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে মুখোমুখি হন সিপিএম প্রার্থী মানস মুখোপাধ্যায় ও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন।
আসন্ন নির্বাচনে জগদ্দলে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস ডঃ রাজেশ কুমার। এলাকায় জল্পনা ছিল এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন প্রিয়াঙ্গু পান্ডে। তাঁকে প্রার্থী না করায় দলের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। অভিমান ভাঙাতে প্রিয়াঙ্গুর বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন রাজেশ ।