


সংবাদদাতা, বোলপুর: অভিষেকের বার্তার পরই লাভপুরে শুধু জয় নয়, ভোটের ব্যবধান বাড়ানোর লড়াইয়ে নেমেছেন তৃণমূল প্রার্থী সহ দলের কর্মীরা। নিয়মিত অঞ্চলভিত্তিক বুথস্তরে মিটিং-মিছিল হচ্ছে। এলাকায় ঘুরে মানুষের অভাব-অভিযোগও শুনছেন দলের নেতারা। প্রচারে বেরিয়ে দিনভর একের পর এক গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থী অভিজিৎ সিংহ ওরফে রানা। তৃণমূল প্রার্থী ৬০ হাজার ভোটে জয়ী হলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে সহাস্য জবাব দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝা।
১৭টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা। যার ১১টি লাভপুর ব্লকে ও ছ’টি সাঁইথিয়া ব্লকে। গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১৭হাজার ভোটে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৮হাজারে। এবার লক্ষ্য ৬০ হাজার ভোটে জয়ের। কয়েকদিন আগে লাভপুরের ফুল্লরা ময়দানের জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৬০হাজার ভোটে জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই বিধানসভার দলীয় সংগঠন এখন তৎপরতার সঙ্গে মাঠে নেমেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অঞ্চলভিত্তিক বুথস্তরে চলছে টানা মিটিং ও মিছিল চলছে। প্রতিটি এলাকায় ঘুরে মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গতবার ইন্দাস, সাংড়া, শ্রীনিধিপুর অঞ্চল ছাড়া বাকি সব জায়গাতেই ভালো ফল করেছিল দল। এবার সেই তিনটি এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রচারের ময়দানে প্রার্থী অভিজিৎ সিংহ দিনভর একের পর এক গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন। সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগই তাঁর প্রধান কৌশল। তাঁর আবেদন, ‘২৩তারিখ সকাল সকাল ভোট দিন। উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিন।’রবিবার সাংড়া অঞ্চলে একাধিক গ্রামে তাঁর প্রচারে ভাল ভিড় হয়। কর্মী-সমর্থকরা কার্যত উচ্ছ্বাসে মাতেন। দলের কর্মী-সমর্থক, বিশেষ করে মহিলারা ৬০ হাজার ভোটে জয়ের লক্ষ্য ছোঁয়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রার্থী অভিজিৎবাবু বলেন, আমাদের সেনাপতির দেওয়া এই টার্গেট ছোঁয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। কারণ মানুষ উন্নয়ন দেখেই ভোট দেবেন। লাভপুর কলেজে এমএ ক্লাস চালু হয়েছে। দমকল কেন্দ্রের কাজও শুরু হয়েছে। আহমদপুরে সুগার মিলের জায়গায় শিল্পতালুকের কাজ শুরু হয়েছে। লাভপুর প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে গ্যালারি তৈরি হয়েছে। আমাদের সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা আমাদের সঙ্গে আছে। প্রচারে বেরিয়ে ভাল সাড়া পাচ্ছি। প্রচারে বেরিয়ে বিরোধীদেরও একহাত নিচ্ছে শাসক শিবির। তাদের অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে, বাজনা বাজিয়ে বিজেপি প্রচার চালাচ্ছে। ভোটের এই ক’দিন তাদের দেখা গেলেও ভোট মিটে গেলে আর দেখা যাবে না। বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝা বলেন, কে কত ভোটে জেতে ৪তারিখই দেখা যাবে। উনি ৬০ হাজার ভোটে জয়ী হলে আমি আর রাজনীতি করব না। সিপিএম প্রার্থী মনসা হাঁসদা বলেন, গরিব খেটে খাওয়া মানুষের জন্য তৃণমূল কোনো কাজ করেনি। তাই ওরা জিততে পারবে না। ফের লাল ফেরাবে হাল।