


সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে ‘মায়ের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শিলিগুড়ি পুরসভার কাউন্সিলার রঞ্জন শীলশর্মা। মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই এই বিধানসভা কেন্দ্রে মা ও ছেলের লড়াই নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়কে বহুদিন থেকেই মা বলে ডাকেন রঞ্জনবাবু। তিনি এখন শিলিগুড়ির বাইরে রয়েছেন। বুধবার রাতে ফিরবেন। টেলিফোনে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে প্রচার শুরু করব। আমার মা মারা যাওয়ার পর আমি শিখা চট্টোপাধ্যায়কে মায়ের আসনে বসিয়েছি। তাঁকে মা বলেই ডাকি। তাই এতবড় লড়াইয়ে নামার আগে মায়ের আশীর্বাদ দরকার। বৃহস্পতিবার সকালে মা’কে প্রণাম করে প্রচার শুরু করব। সেই মায়ের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াই নিয়ে এদিন কোনো মন্তব্য করেননি রঞ্জনবাবু। তিনি বলেন, আগে মায়ের আশীর্বাদ নেব তারপরে এই নির্বাচনি যুদ্ধ নিয়ে আমি আমার বক্তব্য রাখব।
একদা রঞ্জনবাবুর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। বাম আমলে তৃণমূলের হয়ে মূলত শিক্ষক আন্দোলনে এই জুটি ছিল বাম শিবিরের আতঙ্ক। পেশায় দু’জনেই স্কুল শিক্ষক। শিখাদেবী অবসর নিয়েছেন। রঞ্জনবাবু এখনও স্কুল শিক্ষক। পেশাগত কারণে শিক্ষক আন্দোলনে এঁদের একাত্মা দৃঢ় হয়। কিন্তু পরবর্তীতে শিখাদেবী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে যান। গতবার ডাবগ্রাম-ফুরবাড়ি কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী দু’বারের মন্ত্রী গৌতম দেবকে পরাজিত করেছিলেন। এবার রঞ্জন শীলশর্মা তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী। একদা সহযোদ্ধা এবং যে তাঁকে মায়ের আসনে বসিয়েছেন, সেই প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই কী কঠিন হল, প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, রঞ্জন শীলশর্মাকে আমি বহুদিন থেকেই ছেলে হিসাবে দেখি। এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আর একই পরিবারে সকলে সবসময় এক দলের হয় না। তাই আমার বিরুদ্ধে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করল, এ নিয়ে চিন্তিত নই, চাপেও নেই।