


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বেড়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। লক্ষ লক্ষ উপভোক্তা খুশি। তাই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্ক কষতে শুরু করেছে তৃণমূল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধিও তৃণমূলের প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার। দলীয় সূত্রে খবর, এক্ষেত্রে বুথভিত্তিক প্রচারই হবে মূল কৌশল। যে সমস্ত এলাকায় বিরোধী অংশের ভোটার তুলনামূলক বেশি, সেখানে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর প্রচারে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার ভাবনা রয়েছে জোড়াফুল শিবিরের। বারাসত থেকে বসিরহাট—জেলার সর্বত্র প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূল নেতৃত্ব দলের অন্দরে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, মহিলা ভোটব্যাংককে আরও সুসংহত করতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’কে সামনে রেখে প্রচার চালাতে হবে। তার রূপরেখাও তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্প যে কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, সেই সঙ্গে নারীদের ‘সম্মানের স্বীকৃতি’—সেই কথাই প্রচারের কেন্দ্রে রাখতে চাইছে তৃণমূল। বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি বুথস্তরে ছোটো বৈঠক, মহিলাদের নিয়ে আলোচনা সভা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ—সব মিলিয়ে একপ্রকার ‘মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট’ শুরু হয়েছে। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বুরহানুল মোকাদ্দিম বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে একলপ্তে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে মা মাটি মানুষের সরকার মহিলা সশক্তিকরণের বার্তা দিয়েছে। মা-বোনেদের অনেক উপকার হবে। আমরা প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। দলের নির্দেশমতো সব জায়গায় এনিয়ে মিছিলও করা হচ্ছে বুথ ধরে ধরে।’ দেগঙ্গার তৃণমূল ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মানে মা-বোনেদের গর্ব। তাই এনিয়ে যারা অযথা রাজনীতি করে, তাদের মানুষই জবাব দেবে। আমরা বুথভিত্তিক প্রচার চালাচ্ছি।’ বাগদার বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর জানিয়েছেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে মহিলাদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা আছে। বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচিতে তার প্রমাণ মিলছে।
মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা দেবী মণ্ডল, টুম্পা বায়েন বলেন, ‘আগে সামান্য ইচ্ছা পূরণের জন্যও স্বামীদের কাছে হাত পাততে হত। এখন আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় পোশাক, প্রসাধনী ইচ্ছামতো কিনতে পারি।’ বিরোধীরা অবশ্য এই পদক্ষেপকে ‘ভোটের আগে ভাতা রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করছে।
উল্লেখ্য, এবারের রাজ্য বাজেটে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সহায়তা বৃদ্ধি করে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে। তফসিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলাদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে হয়েছে ১৭০০ টাকা। ফলে মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস চোখে পড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার ভোটে মহিলা ভোটাররা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। সেই সমীকরণ মাথায় রেখেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’কে আরও জোরালোভাবে সামনে আনা হচ্ছে।