


সংবাদদাতা, কান্দি: সবকিছু যেন তৈরিই ছিল। টিভিতে প্রার্থীতালিকা পড়া শেষ হওয়ার আগেই কান্দির চার কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রচার শুরু হয়ে গেল। কান্দিতে অপূর্ব সরকারের সমর্থনে কর্মীরা প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। দু’ঘণ্টার মধ্যে এলাকায় দেওয়াল লিখনও শেষ হয়ে গেল। এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানির কথাই প্রচারে তুলে ধরলেন শাসকদলের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার ঘড়িতে তখন বিকেল ৪টে বেজে ২২মিনিট। তখনও তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থীতালিকা পড়ে চলেছেন। তা শেষ হওয়ার আগেই কান্দির চার কেন্দ্রে শাসকদলের কর্মীরা প্রচারে নেমে পড়লেন। গোকর্ণ গ্রামে হাতে রংতুলি নিয়ে বসেছিলেন তৃণমূল কর্মী সাদ্দাম হোসেন। সেখানে দেওয়ালে আগেই জোড়াফুল প্রতীক এঁকে রেখেছিলেন। প্রার্থীপদে অপূর্ব সরকারের নাম ঘোষিত হতেই কয়েক মিনিটে প্রথম দেওয়াল লিখন শেষ করলেন। কান্দি বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে দেওয়াল লিখন শুরু করেন ঘাসফুলের কর্মীরা।
কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা জয়দেব ঘটক বলেন, নাম ঘোষণার দু’ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত দেওয়াল লিখন শেষ হয়েছে। আইনজীবী, ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। প্রচারে এসআইআরের হয়রানি নিয়ে কর্মীরা গর্জে উঠেছেন। নাম ঘোষণার পরপরই খড়গ্রাম বিধানসভার জয়পুর গ্রামে প্রচার শুরু করেন তৃণমূল প্রার্থী আশিস মার্জিত। সেখানে দলীয় কর্মীরা প্রার্থীকে নিয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। প্রার্থীকে মালা পরিয়ে প্রচার শুরু করেন। আশিসবাবু বলেন, কর্মীরা আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। বড়ঞা বিধানসভা এলাকাতেও দলীয় প্রার্থী প্রতিমা রজকের সমর্থনে তৃণমূল কর্মীরা প্রচার শুরু করে দেন। প্রতীক এঁকে একে একে দেওয়াল লিখন চলে।
ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ঘাসফুল প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমানের সমর্থনে সালারে দলীয় কর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। সবুজ আবির উড়িয়ে তাঁরা প্রচার শুরু করে দেন। মুস্তাফিজুর সাহেব বলেন, নাম ঘোষণা হতেই প্রচারে নেমে পড়েছি। বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছি।
অপূর্ববাবু বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর মানুষের ভরসা রয়েছে। মানুষ উন্নয়ন দেখে ভোট দেবেন। যারা সম্প্রীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, মানুষ তাদের বিশ্বাস করে না। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। জবাবে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি সুখেন বাগদি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে ফের গুলিয়ে ফেলেছেন তৃণমূল নেতারা। এবারের লড়াইটা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। খড়গ্রামের সিপিএম প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহা বলেন, মানুষ কাকে চান-তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। চাকরির দাবিতে মানুষ ভোট দেবেন। মঙ্গলবার খড়গ্রামের তৃণমূল প্রার্থী আশিস মার্জিতের প্রচার শুরু জয়পুর গ্রামে।