


সংবাদদাতা, ইটাহার: নীচুতলার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মূল্যায়ন করতে মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি কর্মসূচি শুরু উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারে। প্রত্যেক বুথ কমিটির সঙ্গে একান্ত বৈঠক করছেন বিধায়ক মোশারফ হোসেন। সংগঠন শক্তিশালী করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের সাংগঠনিক মতামতকে। সেগুলি নথিবদ্ধ করছেন খোদ বিধায়ক। দলের বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে করা হচ্ছে মানভঞ্জন। কর্মীদের বাতলে দেওয়া হচ্ছে ভোট প্রচারের স্ট্রাটেজি। মঙ্গলবার এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয় দুর্লভপুর ও গুলন্দর ২ নম্বর অঞ্চলে। ১৫ দিনে ২৩৮টি বুথের প্রায় ১৫ হাজার কর্মীর সঙ্গে সরাসরি আলাপ আলোচনার টার্গেট বিধায়কের।
সামনেই বিধানসভা ভোট। তাই এবার নীচুতলার সংগঠনকে আরও মজবুত করতে মাঠে নেমেছেন মোশারফ। আগেও সরাসরি বুথস্তরের কর্মীদের কথা শুনতে উঠোন বৈঠক করেছেন বিধায়ক। এই মডেল কর্মসূচির প্রশংসা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে বসে সরাসরি কথা বলে হালহকিকত বুঝে নিতে চাইছেন বিধায়ক। এই বৈঠকের আগে ব্লক সভাপতি সহ প্রথম সারির ব্লক নেতৃত্বকে নিয়ে করা হচ্ছে অঞ্চল কর্মী সম্মেলন। এরপর সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রত্যেক বুথের কর্মীদের সঙ্গে হচ্ছে পৃথক পৃথক বৈঠক। প্রধানের পাশাপাশি বৈঠকে থাকছেন অঞ্চলের মাদার, মহিলা, যুব সংগঠনের সভাপতি, চেয়ারম্যান ও অন্যান্য পদাধিকারীরা। মূলত, আলাদাভাবে সরাসরি বিধায়ক শুনছেন বুথস্তরের কর্মীদের নানা সমস্যা, সাংগঠনিক অবস্থা সহ বুথে কী কী উন্নয়ন মূলক কাজের প্রয়োজন রয়েছে তার খতিয়ান। এছাড়া বুথের সংগঠন আরও মজবুত করতে কী করা প্রয়োজন, সেই পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে কর্মীদের কাছ থেকে। কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে সেগুলি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন বিধায়ক। পাশাপাশি নানা কারণে দলের বিক্ষুদ্ধ পুরনো নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিমান ভাঙিয়েছেন বিধায়ক। ভোটের প্রচারে বুথে বুথে কীভাবে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ানকে তুলে ধরে প্রচার করবেন কর্মীরা, সেই রূপরেখাও বাতলে দিচ্ছেন তিনি।
বিধায়ক বলেন, বুথস্তরের কর্মীরাই আমাদের সম্পদ। তাই চলতি মাসে ব্লকের ১৫ হাজার বুথ কর্মীর মূল্যায়ন করতে তাঁদের কথা শুনছি। পাশাপাশি, তাঁদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে নথিবদ্ধ করছি। বিরোধীদের অপপ্রচার ও কুৎসার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র