


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রচারপর্বকেও হাইটেক করছে কমবেশি সব প্রার্থী। তবে সোনারপুর উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম ডিজিটাল প্রচারে কিছুটা অভিনবত্ব এনেছেন এবার। কাউন্সিলার থেকে বিধায়ক হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক জীবনে তিনি কী কী করেছেন, সিপিএম আমলে কীভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল, কীভাবে সোনারপুর উত্তরের ভোল বদলেছেন, তা নিয়ে এআই ভিডিয়ো তৈরি করেছেন তিনি।
এক বিদেশি পর্যটক সোনারপুর উত্তরে এসেছেন, তাঁকে গোটা গল্প বলছেন এক প্রবীণ মানুষ। এভাবেই চিত্রনাট্য সাজিয়ে পুরো সিরিজ তৈরি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০টি এপিসোড। তার মধ্যে আপাতত চারটি এপিসোড অনলাইনে দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন অন্তর ছাড়া হচ্ছে একটি করে এপিসোড। মানুষ যাতে তাঁকে কাজের মাধ্যমে মনে রাখেন, সেই লক্ষ্যেই এই ভাবনা বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর কথায়, চিরাচরিত পথে তো সব দলের প্রার্থীই প্রচার করেন। বাড়ি বাড়ি যাওয়া, রাস্তায় নেমে জনসংযোগ, মিছিল, মিটিং— এসব তো থাকবেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার নেটিজেনদের কাছে পৌঁছাতেই এই সিরিজ তৈরি করা হয়েছে। যে চারটি এপিসোড ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে, তারমধ্যে একটিতে দেখা যাচ্ছ, কী ভাবে নারী সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন বিধায়ক, আবার কামালগাজিতে রাস্তার ধারে একটি পরিত্যক্ত এলাকাকে খেলার মাঠে রূপান্তর করা হয়েছে। সোনারপুর থানা ভেঙে নরেন্দ্রপুর থানা হওয়ার ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে ভিডিয়োতে। তৃণমূলের দাবি, ক্ষমতায় কেউই সারাজীবন থাকবে না। একটা সময়ের পর সবাইকেই সরে যেতে হয়। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি কী কী কাজ করেছেন, কতটা উন্নয়ন করেছেন, সেটাই মনে রাখবে স্থানীয়রা। তাই এই ভিডিয়োতে গত এক দশকেরও বেশি সময়কে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে, তৃণমূল প্রার্থীর এই উদ্যোগকে খোঁচা দিয়েছে বিজেপি। দলের যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার বলেন, ফিরদৌসি বেগম তাঁর ভালো কাজের ভিডিয়ো করে তা প্রচারে তুলে ধরেছেন, কিন্তু তিনি যে খারাপ কাজগুলি করেছেন, সেগুলি কি তিনি ভিডিয়োর মাধ্যমে সামনে আনবেন? নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ড থেকে জলাজমি দখল— সেসব ইস্যুকে একেক করে বিজেপিই সামনে এনে পালটা প্রচার করবে। বামেরা অবশ্য মানুষের কাছে গিয়ে ভোট প্রচার করছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্রেফ প্রচারের ছবি ও ভিডিয়ো দেওয়া ছাড়া তারা আলাদা করে কিছু নতুনত্ব এখনও তুলে ধরতে পারেনি।