


উজির আলি, চাঁচল: নদী ভাঙন সমস্যা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই কেন্দ্রের। কিন্তু সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে জোর প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।।
মালদহের রতুয়া ১ ব্লকের মহানন্দাটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বুক চিরে বয়ে গিয়েছে জোড়া নদী। পশ্চিম প্রান্তে গঙ্গা আর পূর্বে ফুলহার। বর্ষা এলেই গঙ্গার জল ফুলেফেঁপে ওঠে। জল ঢুকে প্লাবিত হয় একাধিক গ্রাম। সেই সময় শুরু হয় ব্যাপক ভাঙন। গত পাঁচ বছরে বিলাইমারি ও মহানন্দাটোলা পঞ্চায়েত এলাকার শয়ে শয়ে বসতবাড়ি ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে। আশ্রয়হীন হয়েছেন এলাকার খেটে খাওয়া মানুষরা। সরকারের তরফে দুর্গতদের আংশিক পুনর্বাসন দেওয়া হলেও অনেকেই পাননি বলে অভিযোগ।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজ্য সরকার ধাপে ধাপে সবাইকে পুনর্বাসন দিচ্ছে। তবে সেখানকার ভাঙন রোধের দাবি দীর্ঘদিনের। এনিয়ে এলাকার বাসিন্দারা একাধিক বার আন্দোলনে নেমেছেন। কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছু মেলেনি বলে দাবি। বিলাইমারি অঞ্চলের মিলন কর্মকারের কথায়, আগামী বছর আমার বাড়িও গঙ্গার গ্রাসে চলে যাবে বলে আশঙ্কা। রাজ্য সরকার সাধ্যমতো ভাঙন রোধের কাজ করেছে। গতবার ভাঙন চলাকালীন জরুরি ভিত্তিতে বস্তা ফেলে মোকাবিলা করেছিল রাজ্য। কিন্তু কেন্দ্র ঘুরেও আমাদের দিকে তাকায়নি। কেন্দ্র বরাদ্দ দিলে হয়তো অনেক পরিবার ভিটে ছাড়া হত না।গদাই মহারাজপুরের ঝর্ণা মহলদারের কথায়, বর্ষা এলেই গ্রামে বন্দি হয়ে থাকি। বাড়িতেও জল ঢুকে যায়। ভাঙন রোধের কাজের দাবি পূরণ হচ্ছে না। এপ্রসঙ্গে রতুয়ার বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী সমর মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, বিজেপির কে কি বলল জানি না। দলের তরফে মন্তব্য করায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে, মালদহ জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, সমরবাবুর হাত ধরেই রতুয়ায় একাধিক প্রকল্প হয়েছে। তাই ওই এলাকার মানুষ তিন দশক ধরে সমরবাবুকে আশীর্বাদ করে আসছেন। নদী ভাঙনে বিজেপি সরকার বরাদ্দ না দিয়ে এখন ভোটে নাটক করছে।
বৃহস্পতিবার প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া ভাঙন ইস্যু তুলে মানুষকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন। বলেন, রতুয়ায় ৩০ বছর বিধায়ক রয়েছেন। রাস্তাঘাট ও আলো ছাড়া কোনো উন্নয়ন করেননি। নদী ভাঙন নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক উদ্যোগ নেননি। তাই মানুষ তাঁকে এবার প্রত্যাখ্যান করবেন। নদী ভাঙন।-ফাইল চিত্র