


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: উন্নয়নকে সামনে রেখেই তারকেশ্বরে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল। বামেদের হাতিয়ার ফসলের ন্যায্য দাম, চাকরি ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি। অন্যদিকে, অনুন্নয়নের প্রশ্নকে সামনে এনে প্রচারে শান দিচ্ছে বিজেপি।
২৯ এপ্রিল হুগলিতে ভোট। ভোটের লড়াইয়ে প্রথম সারিতে যেসব দল রয়েছে, তারা প্রায় প্রত্যেকেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। তারকেশ্বরে সিপিএম প্রার্থী আদেশ খামরুই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পার্ট টাইম অধ্যাপক। শাসকদলের অপশাসনই তাঁর প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার। তিনি বলেন, আমরা ফসলের ন্যায্যমূল্যের দাবি মানুষের কাছে তুলে ধরব। এবার এখনও আলুর দাম পাননি চাষিরা। শুধু কৃষক নয়, শ্রমিক-যুবদের স্বার্থে আমরা সারা বছর রাস্তায় নেমে রাজনীতি করি। এই লড়াই খেটেখাওয়া মানুষের রুটি-রুজির লড়াই। চাকরির দাবির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবি নিয়ে আমরা মানুষের বাড়ি বাড়ি যাব। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আদেশবাবু।
উলটোদিকে, গত পাঁচ বছরে তারকেশ্বরে যে উন্নয়ন হয়েছে, তাকে হাতিয়ার করেই এবার ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বর্তমান বিধায়ক তৃণমূলের রামেন্দু সিংহ রায়। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরের খতিয়ানের পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছর আমাদের উন্নয়নের পরিকল্পনা কী হবে, তাও তুলে ধরা হবে প্রচারে। প্রার্থীর কথায়, রাজ্যের ৯৫টি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন এলাকার মানুষ। ইতিমধ্যেই গ্রামীণ হাসপাতালে ২০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। তৈরি হয়েছে ল্যাবরেটরি। ১০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে দুধপুকুরের জল পরিশুদ্ধ করার কাজ এখন শেষের পথে। তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তরিত করার ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে থাকবে ব্লাড ব্যাংক। এখন তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সাতটি পঞ্চায়েত। ভবিষ্যতে তারকেশ্বর বিধানসভার আওতাধীন পুরসভা ও সবকটি পঞ্চায়েতকে পরিষদের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রামেন্দুবাবু বলেন, ভবিষ্যতে তারকেশ্বরের চেহারাই বদলে যাবে। লালপাখা শ্মশানের কাছে ঝিলকে কেন্দ্র করে ইকো ট্যুরিজম ও তারকেশ্বর স্টেশন থেকে মন্দির পর্যন্ত স্কাইওয়াক করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈদ্যবাটি মোড় থেকে তারকেশ্বর ওয়েলকাম গেট এবং তারকেশ্বর থেকে চাঁপাডাঙা পর্যন্ত রাস্তাকে চার লেন করা হবে। এর ফলে পুণ্যার্থীদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
নতুন পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে রামেন্দুবাবু বলেন, গোপীনাথপুর ২ নম্বরে দামোদরের উপর একটি সেতু নির্মাণ হবে। ফলে ওপারে পুরশুড়ার ভাঙামোড়ায় যেতে সুবিধা হবে এলাকাবাসীর। এছাড়াও অডিটোরিয়াম তৈরির ব্যাপারে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে। তারকেশ্বর স্কুল মাঠের আধুনিকীকরণ ও গ্যালারি তৈরির ভাবনাকেও তুলে ধরেন তিনি।
থেমে নেই বিজেপির প্রচারও। পদ্ম শিবির এখানে প্রার্থী করেছে সন্তু পানকে। তাঁর দাবি, তারকেশ্বরের গরিমা ফিরিয়ে আনতে মানুষ পদ্মফুলেই ছাপ দেবেন। ব্যক্তি নয়, প্রতীকই শেষ কথা। তারকেশ্বরে অপরিসর রাস্তা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও বেহাল। এদিকে সরকারের নজর নেই। যুবকদের চাকরি নেই, কৃষকরা ফসলের দাম পান না। এই দুর্বিসহ জীবন থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র বিজেপি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারকেশ্বরে বিজেপি প্রার্থীর গাড়ির উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। দল এ নিয়ে তারকেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। যদিও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে তৃণমূল।