


নয়াদিল্লি, ১৪ জুন: ত্রিপুরার দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে গেলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। তৈরি হল একবারে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। আজ, রবিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তাঁরা। তারপরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। লোকসভায় আলাদা সংসদীয় দল বা ব্লক গড়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা রয়েছে, তা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়ার জন্য একটি চিঠিও প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে এই বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদরা নিজেদের এনসিপিআইয়ের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তবে জানা গিয়েছে, এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএকেই সমর্থন করবেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা।
এর আগে আজ দুপুরে কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার সময় চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। জানিয়েছিলেন, ২০ নয় এবার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে ২২। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এর আগে সংখ্যাটা বলেছিলাম ২০, আসলে তা হবে ২২। জানা গিয়েছে, এদিনই নয়াদিল্লি গিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদরা। আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার সংসদের স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকও করবেন। তার আগে নিজেরা অবশ্য আজ সন্ধ্যায় বৈঠক করবেন। আজ কলকাতা থেকে নয়াদিল্লি যাওয়ার ঠিক আগেই বারাসতের ৪ বারের সাংসদ কাকলি জানান, তাঁদের সংখ্যা আপাতত ২০। তবে শীঘ্রই তা বেড়ে ২২ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আরও ২ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ তাঁদের সঙ্গে না কী যোগাযোগ করেছেন। খুব শীঘ্রই দলে যোগ দিতে পারেন তাঁরা। ফলে বিদ্রোহী দলের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ২২ হওয়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু এই ২ জন সাংসদ কারা সে বিষয়ে কাকলিকে জিজ্ঞাসা করা হলে কিছুই বলতে চাননি তিনি। বলেন, আগে তাঁরা শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করুন তারপরই তাঁদের নাম জানানো হবে। ইতিমধ্যেই শেষ মুহূর্তে চমক দিয়ে বিদ্রোহী দলে নাম লিখিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনিই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরের দলনেতা এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার মুখ্যসচেতক হতে চলেছেন বলে কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে। কাকলির পাশাপাশি মালা রায়, সায়নী ঘোষ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, বাপি হালদার এবং দেবও ইতিমধ্যেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।