


সংবাদদাতা, হলদিয়া: ফের চার মাসের মাথায় এক্সাইডের দ্বিতীয় ব্যাটারি বোঝাই ট্রাক মাঝরাস্তা থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল শিল্পাঞ্চলে। এবার হলদিয়া থেকে আসামের গুয়াহাটি যাওয়ার পথে ৫৫ লক্ষ টাকার ব্যাটারি বোঝাই গাড়ি গায়েব হয়েছে বলে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে হলদিয়া থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী যাওয়ার পথে মাঝরাস্তায় রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছিল প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকার দামি ব্যাটারি বোঝাই ট্রাক। ওই ট্রাক হাইজ্যাকিং কাণ্ডে ভবানীপুর থানার পুলিস গাড়ির মালিক সহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করার ১৫ দিনের মাথায় ফের এক্সাইড কারখানার ব্যাটারি বোঝাই গাড়ি গায়েব হওয়ার ঘটনায় তাজ্জব পুলিসও। দ্বিতীয় ব্যাটারি গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভবানীপুর থানায় ট্রান্সপোর্ট সংস্থার গাড়ির মালিক ও ড্রাইভার সহ দু'জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছে।
পুলিসের তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন, ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় গাড়ির ড্রাইভার সুব্রত দাস তমলুক থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। তার পাঁচ দিনের পুলিস হেফাজত হয়েছে। হলদিয়া থেকে একের পর এক গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মালিক ও ড্রাইভাররা গ্রেপ্তার হওয়ায় পুলিস কার্যত নাজেহাল।
সূত্রের খবর, এই ঘটনায় পুলিস সর্ষের মধ্যে ভূত দেখছে। পুলিস জানিয়েছে, গত ৪ আগস্ট হলদিয়ার কসবেড়িয়ায় এক্সাইড ব্যাটারি কারখানা থেকে একটি ট্রাক লোডিং হয়। ৭৬০টি ব্যাটারি গুয়াহাটিতে এক্সাইডের অন্য একটি প্ল্যান্টে পৌঁছনোর দায়িত্বে ছিল মেগা ফ্রিট মুভার্স নামে হাওড়ার জগাছার একটি ট্রান্সপোর্ট সংস্থা। তারা ৮৪ হাজার টাকায় ওই ট্রাক ভাড়া করেছিল। গুয়াহাটি পৌঁছনোর আগেই সেই ভাড়াও মেটানো হয়েছিল বলে দাবি। কিন্তু, একসপ্তাহ পরও ওই ট্রাক না পৌঁছনোয় পুলিসে অভিযোগ জানিয়েছে ট্রান্সপোর্ট সংস্থা।
অভিযোগ, গাড়ি উধাও হওয়ার পর গাড়ির মালিক ও ড্রাইভার মোবাইলের সুইচ বন্ধ করে দেয়। গ্রেপ্তারের পর গাড়ির ড্রাইভারকে জেরা করছে পুলিস। তবে গাড়ির ব্যাটারি কোথায় তার হদিশ মেলেনি। এরআগে এক্সাইডের যে গাড়িটি উত্তরপ্রদেশ যাওয়ার পথে ছিনতাই হয়েছিল তার মালিক ও ড্রাইভার ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল। ধৃত আবদুল বারিক এবং মজফ্ফর আনসারির যথাক্রমে উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডে। ধৃতরা যোগসাজশ করে ঝাড়খণ্ডে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যাটারি বেচে দিয়েছিল। তবে পুলিস এখনও গায়েব হওয়া ওই ব্যাটারির হদিশ করতে পারেনি। ধৃত আনসারির নামে এধরনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারী পুলিস আধিকারিক জানান, যেভাবে গাড়ির মালিক ও ড্রাইভার মিলিতভাবে ছিনতাইচক্র চালাচ্ছে তাতে দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করা কঠিন হয়ে পড়ছে।