


ওয়াশিংটন: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতাতে শুধুমাত্র প্রচারেই ২০ কোটি ডলার খরচ করেছিলেন টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো সংস্থার মালিক এলন মাস্ক। ক্ষমতায় এসে প্রতিদানও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। খরচ কমানোর জন্য রাতারাতি দপ্তর তৈরি করে তার প্রধান পদে মাস্ককে বসিয়েছিলেন। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই পট পরিবর্তন। ট্যাক্স বিল নিয়ে চরম সংঘাতে জড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেসলা কর্তা এলন মাস্ক। পরিস্থিতি এমনই যে, প্রকাশ্যেই একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে শুরু করেছেন। মাস্ক স্পষ্ট জানান, তাঁকে ছাড়া ট্রাম্পের পক্ষে জেতা সম্ভব ছিল না। ডেমোক্র্যাট দলই ফের ক্ষমতায় আসত। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এভাবে চললে তাঁর সংস্থা স্পেসএক্সের তৈরি ড্রাগন মহাকাশযান আর নাসা ব্যবহার করতে পারবে না। যদিও কয়েক ঘণ্টা পরে টেসলা কর্তা ঘোষণা করেন, আপাতত তিনি মহাকাশযান সরিয়ে নিচ্ছেন না। তিনি ‘টিম আমেরিকা’র সঙ্গেই রয়েছেন।
মাস্কের চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারির পরেই ভারতীয় নভোশ্চর শুভাংশু শুক্লার মহাকাশযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে চেপেই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যাওয়ার কথা শুভাংশুর। তবে পরে জানা যায়, মাস্ক-ট্রাম্পের সংঘাতের প্রভাব মহাকাশযাত্রায় পড়বে না। ১০ জুন ভারতীয় সময়ে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ শুভাংশুদের যান স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেবে।
গত সপ্তাহেই ট্রাম্পের বিল নিয়ে সমালোচনা করে ডিপার্টমেন্ট অব গর্ভনমেন্ট এফিসিয়েন্সি ছেড়েছিলেন মাস্ক। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ‘মাস্কের আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক।’ ক্রমশ কাদা ছোড়াছুড়ির মাত্রা আরও বাড়ে। টেসলা কর্তাকে ‘পাগল’ উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমাজ মাধ্যমে লেখেন, মাস্কের সংস্থার সঙ্গে সমস্ত চুক্তি বাতিল করে দেওয়া উচিত। ভর্তুকিও বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এরপরই মহাকাশযান সরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মাস্ক। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর খেসারতও দিতে হয়েছে টেসলা কর্তাকে। তাঁর সংস্থার শেয়ারের দর ১৪ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। বাজার থেকে মুছে গিয়েছে ১৫ হাজার কোটি ডলার।