


ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: ভারতের উপর শেষ পর্যন্ত কত শতাংশ হারে কর চাপছে? ১০, ১৩.৫ নাকি ১৮ শতাংশ? মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের পালটা শুল্ক খারিজ হয়ে যাওয়ায় করের নতুন হার নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বিভিন্ন বয়ান সামনে আসায় জটিলতা বেড়েছে। স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অক্ষুণ্ণই থাকবে। অর্থাৎ আপাতত ১০ শতাংশ ‘অভিন্ন’ শুল্ক চাপলেও বিকল্প পথ খুঁজে তা ১৮ শতাংশে বর্ধিত করা হবে। জট কাটাতে ও বাণিজ্য চুক্তির প্রথম দফার আইনি বয়ান নির্ধারণে ২৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন যাচ্ছে ভারতীয় প্রতিনিধি দল। অনিশ্চয়তার এই আবহেই শনিবার কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের মুণ্ডপাত করেছে বিরোধী শিবির। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর তোপ, প্রধানমন্ত্রী আপোস করেছেন। ভারত-মার্কিন অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তাঁর ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ফাঁস হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের বক্তব্য, ভঙ্গুর ভাবমূর্তি রক্ষায় মরিয়া প্রধানমন্ত্রী মোদি তড়িঘড়ি চুক্তি করতে না ছুটে আর ১৮টি দিন যদি অপেক্ষা করতেন, তাহলে দেশের কৃষকরা রক্ষা পেতেন। ভারতের সার্বভৌমত্বও রক্ষিত হত। কিন্তু তা না করে তিনি আমেরিকার কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ মস্তানি’কে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে দিয়েছে খোদ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ যে বিশেষ আপৎকালীন আইনকে ঢাল করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গোটা বিশ্বের উপর ‘পালটা শুল্ক’ চাপিয়েছিলেন, মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে সেই পদক্ষেপ আইনসঙ্গত নয় বলেই আদালতের নির্দেশ। সুপ্রিম কোর্টের এই ধাক্কার পর শুক্রবার রাতেই তড়িঘড়ি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নামেন ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্ট ‘পালটা শুল্ক’ খারিজ করায় এবার তাঁর হাতিয়ার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা। এতকাল অব্যবহৃত এই ধারাতেই এবার বিশ্বের সব দেশের উপর ১০ শতাংশ হারে কর চাপিয়েছেন তিনি। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য তা বহাল থাকবে। ১৫০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। তবে আলাত খারিজ করায় পালটা শুল্ক হিসেবে এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত ১৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার অর্থের ভবিষ্যৎ কী, তা স্পষ্ট নয়। আর এর মধ্যেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতীয় পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক চাপবে? অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় পূর্বের ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ভারতের উপর কর ১৮ শতাংশ করেছিল আমেরিকা। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কার পর ১২২ ধারায় বিশ্বের সব দেশের পর অভিন্ন ১০ শতাংশ কর আরোপের কথা ঘোষণা হয়েছে। তাহলে ভারত কি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ১৮ শতাংশ কর গুনবে, না কি অভিন্ন শুল্কের আওতায় তা ১০ শতাংশ হবে? ঘটনাচক্রে, পালটা শুল্ক আরোপ হওয়ার আগে ‘মোস্ট ফেভারড নেশনে’র মর্যাদাভুক্ত ভারতকে ৩.৫ শতাংশ হারে কর দিতে হত। পালটা শুল্ক খারিজ হওয়ায় তাহলে কি ভারতকে ১০ শতাংশ অভিন্ন শুল্কের সঙ্গে ৩.৫ শতাংশ মিলিয়ে ১৩.৫ শতাংশ কর দিতে হবে? হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বে বেশি হারে সমঝোতা হয়ে থাকলেও ভারতের মতো বাণিজ্যিক সহযোগী দেশগুলির উপরও ১০ শতাংশ হারেই কর চাপবে। তবে একইসঙ্গে হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, কোন রাস্তায় সমঝোতায় আসা হারেই কর বর্ধিত করা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন তা খুঁজে বের করবে। একই ইঙ্গিত স্বয়ং ট্রাম্পের কথাতেও মিলেছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে চুক্তি অক্ষুণ্ণ থাকছে। ভিন্ন রাস্তায় (১৮ শতাংশ হারে কর) তা কার্যকর করতে চলেছি আমরা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইঙ্গিত আঁচ করেই এদিন ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, মার্কিন আদালতের নির্দেশ সংক্রান্ত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পিটিআইয়ের তোলা ছবি।