


নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন: সস্তায় রাশিয়া ও ইরান থেকে জ্বালানি কিনলেই এবার ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে আমেরিকা। দু’দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার বিল পাশ হয়েছিল মার্কিন সংসদে। শুক্রবার (মার্কিন সময়) সেই ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলে স্বাক্ষর করে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে এবার সেটি আইনে পরিণত হল। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সংশ্লিষ্ট বিলে সই করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন মুলুকের এই নয়া আইনে কোন কোন দেশ সমস্যায় পড়তে পারে? তালিকায় সবার উপরে রয়েছে ভারত ও চীন। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে আমেরিকার আপত্তি সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়িয়েছিল এশিয়ার এই দুই দেশ। বিপাকে পড়তে পারে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, কিরগিস্তান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়ার মতো দেশ। সদ্য আইনে পরিণত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিলে এই দশটি দেশের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নয়া শুল্ক বিধির কড়া প্রতিবাদ করেছে ভারত, চীন সহ একাধিক দেশ। ভারত সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং সাফ জানিয়েছেন, দেশের জনগণের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাইরের কোনো চাপ বা হুমকির জন্য নীতি বদল করা হবে না। জনগণের স্বার্থেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে অবশ্য, বিল আইনে পরিণত হওয়া মাত্রই ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হচ্ছে না। পুরোটাই এখন ট্রাম্পের মর্জিমাফিক।
কিন্তু কেন এই নতুন আইন আনল আমেরিকা? কেনইবা তা ভারতের মতো ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রের উপর চাপাতে তৎপর ট্রাম্প প্রশাসন? আমেরিকার যুক্তি, অনৈতিকভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ও ইরান। তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতেই এই আইন। এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার একই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু, আইনসভার অনুমোদন না থাকায় আদালতে সেই ‘শুল্ক-শাস্তি’র সিদ্ধান্ত মুখ থুবড়ে পড়েছে। এবার সেই সমস্যা পোহাতে হবে না মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, আমেরিকা মনে করছে, মার্কিন শুল্কের ভয়ে সহযোগী দেশগুলি তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। তাতে রাশিয়ার অর্থভাণ্ডারে টান পড়বে। তখন আগ্রাসন বন্ধ করতে বাধ্য হবে পুতিনের দেশ। আর তাই মস্কোর সামগ্রীর উপর চড়া শুল্ক (৫০০ শতাংশ পর্যন্ত) চাপানোর পাশাপাশি টার্গেট করা হয়েছে ভারত, চীনের মতো দেশগুলিকে। তবে শোনা যাচ্ছে, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সিংহভাগ এই বিলকে সমর্থন করলেও দলের মধ্যে বিরুদ্ধ-সুর ক্রমশ চড়ছে। সংবাদ সংস্থা সিএনএন সূত্রে খবর, নয়া আইনে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়বে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নতুন আইনে প্রকাশ্যে চলে এসেছে আমেরিকার দ্বিচারিতাও। কারণ, তাতে মার্কিন পরমাণু কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী (লো এনরিচড ইউরেনিয়াম) রাশিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি। অর্থাৎ অন্যকে শুল্ক-শাস্তির হুমকি দিলেও ট্রাম্পের দেশ নিজে রাশিয়া থেকে কেনাকাটা অব্যাহত রাখবে। যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সহ ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত মস্কোর সমস্ত শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে নয়া আইনে। ইরানের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধের মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। সেদেশের প্রশাসনকে ধ্বংস করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।