


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক। নিবার্চনের আগে প্রতিশ্রুতিও ছিল প্রচুর। এবার জনগণের সময় এসেছে সেই হিসাব কড়ায়গণ্ডায় মিলিয়ে নেওয়ার।
আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথমদফায় রাজ্যের ১৫২টি আসনের সঙ্গে তুফানগঞ্জ আসনেও ভোট। তাই তুফানগঞ্জের বাতাসে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে কী পাইনি, কী পেলাম, এর চুলচেরা হিসাবনিকেশ। যার প্রতিফলন ইভিএমে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। তুফানগঞ্জ আসনটি বিজেপির দখলে। বিদায়ী বিধায়ক মালতী রাভা রায়। দল আস্থা রেখে এবারো তাঁকে টিকিট দিল। গত ৫ বছরে তিনি নিজের বিধানসভা এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করেছেন, সেটা সকলেই বলছেন। কিন্তু চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন তিনি বা তাঁর দল করতে পারেননি, এ নিয়ে আক্ষেপ যেমন আছে, ক্ষোভও আছে জনগণের।
এমনিতেই তুফানগঞ্জ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত একটি জায়গা। শহরের মধ্যে তেমন বিরাট উন্নয়ন কিছু হয়নি। তার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় কিছু রাস্তা, সোলার লাইট, শ্মশান সংস্কার, স্কুলের মুক্তমঞ্চের মতো নির্দিষ্ট কিছু কাজই বিধায়ক করতে পেরেছেন। তবে কেন্দ্রীয় কোনো প্রকল্প আনতে পারেননি। তুফানগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় নদী ভাঙনের সমস্যা। সেইসঙ্গে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনও ছিল। জালধোয়ায় সেতু হলে তুফানগঞ্জের একটি বিরাট এলাকার মানুষ উপকৃত হত, কিন্তু হয়নি। তাই তৃণমূল কংগ্রেস স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনে এসব ইস্যু করে বিজেপিকে তুলোধোনা করতে শুরু করেছে। কিন্তু বিজেপির সাফাই, তারা কিছু করতে গেলেই সেই কাজে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সাধারণ প্রচারেই বাধা দেওয়া হয়েছে। সেখানে উন্নয়ন প্রসঙ্গ নিয়ে তারা কীভাবে এগবেন। তাই বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকায় যতটা সম্ভব উন্নয়ন করেছেন।
তুফানগঞ্জ ব্লক তৃণমূল সভাপতি নিরঞ্জন সরকার বলেন, বিজেপি একুশের ভোটের আগে রাস্তা, পানীয় জল, সেতু, সার্বিক উন্নয়ন অনেক কিছুর প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিল। কিন্তু কিছুই করতে পারল না। গত পাঁচ বছরে চোখে পড়ার মতো উল্লেখযোগ্য কাজ দেখাতে পারবে না। উল্টো দিকে, আমাদের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আবাসের ঘর থেকে শুরু করে সবকিছুই দিয়েছে। তার প্রতিফলন নিশ্চয় নির্বাচনে দেখা যাবে।
বিদায়ী বিধায়ক মালতী রাভা রায় বলেন, ৩ কোটি ২০ লক্ষের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা খরচ করেছি। সব কাজ শেষ হয়েছে। আমার এলাকায় রাস্তা, সোলার লাইট, শ্মশান, স্কুলের মুক্তমঞ্চ, বারুণী মেলার জন্য স্নানের ঘাট সহ বিভিন্ন কাজ করেছি। কালভার্ট সহ নানা কাজের প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছিল। যার পরিমাণ ১ কোটি টাকার ওপরে। আমার বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকার সিংহভাটাই খরচ করেছি। জেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র না মেলায় কিছু কাজ করতে পারিনি। • মালতী রাভা রায়।