


সংবাদদাতা, লালবাগ: লালগোলা থানার চামাপাড়ায় গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের আড়ালে বেআইনিভাবে আধার কার্ড তৈরি হচ্ছিল। শুক্রবার গভীর রাতে পুলিসি অভিযানে এই কারবারের পর্দা ফাঁস হয়। এঘটনায় পুলিস সাহিন আক্তার ও আবু সুফিয়ান নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সাহিনের বাড়ি চামাপাড়াতেই। আবু সুফিয়ানের বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানার জোড়গাছা গ্রামে। অভিযানে দু’টি আধার কার্ড ও নানা সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের শনিবার লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, সাহিন স্থানীয় একজনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র খুলে বসেছিল। ওই গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের আড়ালে বেআইনিভাবে আধার কার্ড তৈরি হতো। রঘুনাথগঞ্জের জোড়গাছার আবু সুফিয়ান ছিল এই কাজের মাস্টারমাইন্ড। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার গভীর রাতে চামাপাড়ায় অভিযান চালানো হয়। আধার কার্ড তৈরির বৈধ নথি দেখাতে না পারায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস, আই স্ক্যানার, কীবোর্ড, মনিটর সহ নানা সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। বাজেয়াপ্ত সরঞ্জাম থেকে একাধিক তথ্য মিলবে বলে পুলিস আশাবাদী।
পুলিস জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে ওই গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। বেআইনিভাবে আধার কার্ড তৈরির বিষয়ে নিশ্চিত হতেই শুক্রবার রাত প্রায় ১২টা নাগাদ অভিযান চালানো হয়। তখন বন্ধ ঘরের ভিতরে আধার কার্ড তৈরি চলছিল।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, সীমান্ত এলাকায় গজিয়ে ওঠা এসমস্ত গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র মোটা টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে আধার কার্ড সহ অন্য পরিচয়পত্র তুলে দেয়। চামাপাড়ার গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে বেআইনিভাবে তৈরি আধারকার্ড কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর হাতে গিয়েছে কি না, গিয়ে থাকলে কতজনের হাতে গিয়েছে-সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৮তারিখে ভরতপুর থানার গোবিন্দপুরে একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে দু’জনকে ও ১৯তারিখে খড়গ্রাম থানার নগরগ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দু’টি ক্ষেত্রেই আধার কার্ড তৈরির একাধিক সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত হয়। এবার লালগোলাতেও এই বেআইনি কারবারের হদিশ মিলল। -নিজস্ব চিত্র