


সংবাদদাতা, ইটাহার: খেজুর ও চিকিৎসা সামগ্রীর প্যাকেটে লুকিয়ে পাচার হচ্ছিল বিপুল মাদক। ইটাহারের গোঠলু এলাকায় জাতীয় সড়কের ধার থেকে গ্রেপ্তার মালদহের দুই যুবক। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দুই কেজি ব্রাউন সুগার ও একটি ছোট গাড়ি।
মঙ্গলবার ধৃতদের রায়গঞ্জ জেলা আদালতে পেশ করে ইটাহার থানার পুলিশ। ধৃতরা হল নাসির মিঞা ও ইব্রাহিম। দু’জনের বাড়ি মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানার মালতীপুর ও গোলাবাড়ি এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াচক থেকে পার্শ্ববর্তী উত্তর, দক্ষিণ দিনাজপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে নিষিদ্ধ মাদক। ইতিমধ্যে মালদহ জেলা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। তারপরেও কমছে না ব্রাউন সুগারের কারবার। মালদহ থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলায় বিক্রি করতে এসে চলতি বছর ইটাহার, রায়গঞ্জ সহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদক সহ গ্রেপ্তার হয় মালদহের বিভিন্ন থানা এলাকার কয়েকজন যুবক। আবার কালিয়াচক থেকে মাদক কিনে ইটাহার সহ উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে এসে গ্রেপ্তার হয় দু’জন।
জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার দুই যুবক খেজুর ও চিকিৎসা সামগ্রীর প্যাকেটে মাদক লুকিয়ে গোঠলু এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি ছোট চারচাকা গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে আইসি গৌতম চৌধুরীর নেতৃত্বে ইটাহারের পুলিশ হানা দেয়। গাড়িটি আটক করে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী অফিসাররা। কিন্তু কথায় অসঙ্গতি পাওয়ার পর পুলিশ দুই যুবক সহ ছোট চারচাকা গাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেই সময় ২০টি প্যাকেটে ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ প্রায় দুই কেজি। যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এই মাদক ইটাহার সহ রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির ছক ছিল ধৃতদের। পাশাপাশি, উত্তর দিনাজপুর রুট ধরে পার্শ্ববর্তী বিহারে ব্রাউন সুগার পাচারের ছক থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারী অফিসাররা। পুলিশ জানায়, বিচারক ধৃতদের আটদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।