


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর ও চুঁচুড়া: দোলে পৃথক দুর্ঘটনায় ভাটপাড়া ও বলাগড়ে গঙ্গায় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন ছ’জন। টানা তল্লাশির পর দু’টি জায়গায় দু’টি দেহ উদ্ধার হল। বাকিদের খোঁজ চলছে। ভাটপাড়ার গঙ্গায় ডুবে যাওয়া চারজনের মধ্যে একটি দেহ উদ্ধার করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। মৃতের নাম দীপশিখা দাস। বয়স আনুমানিক ২৭। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইছাপুর নবাবগঞ্জ ঘাট থেকে তাঁর দেহ পাওয়া গিয়েছে। সেটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনও নিখোঁজ বাকি তিনজন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে হুগলির কুন্তিঘাটে উদ্ধার হয়েছে শুভজিৎ মণ্ডলের দেহ। অন্যজনের খোঁজ চলছে। মঙ্গলবার বলাগড়ের ডুমুরদহে ডিঙি নৌকায় পাঁচ বন্ধু গঙ্গাবক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। নৌকা উলটে সায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় (২৩) এবং শুভজিৎ মণ্ডল (২১) নিখোঁজ হয়ে যান। বাকিরা রক্ষা পান।
মঙ্গলবার বিকেলে রং খেলা শেষে দুই যুবক এবং তাঁদের সম্পর্কিত বোন দীপশিখা ভাটপাড়া বলরাম সরকার গঙ্গার ঘাটে স্নান করতে নেমেছিলেন। তাঁদের বাড়ি জগদ্দল বিধানসভা এলাকার ভাটপাড়া পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাল গভর্নমেন্ট কলোনিতে। স্নানের সময় তিনজনই গঙ্গায় তলিয়ে যান। তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা একাদশ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ সরকার।
দীপশিখার আসল বাড়ি কলকাতার হাতিবাগানে। নিখোঁজ বাকি তিন যুবক হলেন সৈকত নন্দী (৩২), সৌরভ নন্দী (২৭) এবং সৌরভ সরকার। দীপশিখাকে বাঁচাতে গিয়ে সৌরভ গঙ্গায় তলিয়ে যান। দিনভর ৫০ জন ডুবুরি গঙ্গায় তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালিয়ে ওই তিনজনকে উদ্ধার করতে পারেনি।
প্রশাসন ও স্থানীয় ডুবুরিদের সহায়তায় বাকি নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, কলকাতা পুলিশের ডুবুরি এবং এনডিআরএফ-এর টিম দিনভর তল্লাশি চালায়। আজ শুক্রবার ভোর থেকে ফের তারা তল্লাশি শুরু করবেন। বলরাম সরকার গঙ্গার ঘাটে এদিন বহু মানুষের ভিড় ছিল। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা দিনভর গঙ্গার ঘাটেই অপেক্ষা করছেন।
উদ্ধার কাজে তদারকি করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গঙ্গার ঘাটে আসেন। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্য অমিত গুপ্তা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুবই চেষ্টা করা হচ্ছে। ডুবুরিরা তন্নতন্ন করে খোঁজ চালাচ্ছে। কিন্তু গঙ্গার এত স্রোত। জোয়ার ভাটায় কোথায় ভেসে গেছে বোঝা যাচ্ছে না। এই মর্মান্তিক ঘটনার সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই।