


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: উপনির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হচ্ছে নন্দীগ্রাম। প্রথমে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার। তারপর আজ তার হয়ে প্রচার করতে বেরনোর সময় দুই কংগ্রেস নেতাকেও আটক করল পুলিশ। এই ঘটনায় আজ সকালে যথারীতি চাঞ্চল্য ছড়াল নন্দীগ্রামে।
জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামে ভোট প্রচার করতে বেরিয়েছিলেন দুই কংগ্রেস নেতা ও লেখক ও সমাজকর্মী মানিক ফকির ও মতুয়া সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট মুখ সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস। সকালে প্রচারে বেরনোর মুখেই চণ্ডীপুরে একটি হোটেলের বাইরে থেকে দুই নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আজ সকালে চণ্ডীপুরে এই ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
তাঁদের নন্দীগ্রামে ভোট প্রচারের দায়িত্ব দিয়েছে কংগ্রেস। কয়েকদিন আগে তাঁরা দু’জনই কংগ্রেস যোগ দিয়েছেন। চণ্ডীপুরের একটি হোটেলে দু’জনে ছিলেন বলে খবর। আজ সকালে সেই হোটেল থেকে বেরনোর সময়ই চণ্ডীপুর থানার পুলিশের গাড়ি সেখানে পৌঁছে যায়। দু’জনকে থানায় যাওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তাঁরা থানায় যেতে অস্বীকার করলে পুলিশ গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। তারপর চণ্ডীপুর থানার বাইরে সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মানিক ফকিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা পর্যবেক্ষক শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, 'বিজেপি আতঙ্কে কাঁপছে। তাই পুলিশ লাগিয়ে এসব করছে। এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাই'।
উল্লেখ্য, গতকাল ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ছ’টি ফৌজদারি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জামিনে থাকতে পারবেন তিনি। ফলে ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন তিনি। তবে ২১ অক্টোবর তাঁকে সংশ্লিষ্ট ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করতে হবে এমনটাও জানান বিচারপতি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতর বাড়ার পাশাপাশি আজ দুই নেতাকে আটকের ঘটনায় যথারীতি চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে কংগ্রেস মহলে।